‘জিপিএ-৫ পেয়ে বাবার কথা খুব মনে পড়ছে, বাবার স্বপ্ন পূরণে ম্যাজিস্ট্রেট হব’
‘এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে বাবার কথা খুব মনে পড়ছে। তিনি বেঁচে থাকলে খুব খুশি হতেন। বাবার স্বপ্ন ছিল আমাকে ম্যাজিস্ট্রেট বানাবে। তবে সে পর্যন্ত তিনি দেখে যেতে পারলেন না। এটাই আফসোস। এখন বাবার স্বপ্ন আমার স্বপ্নের সঙ্গে মিলে গেছে, আমি এখন বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট হতে চাই।’ এ কথাগুলো বলছিলেন নারায়ণগঞ্জ শহরের ‘সুলতান ভাই কাচ্চির’ রেস্তোরাঁয় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া শফিউল আলম কাজলের বড় মেয়ে নুসরাত জাহান শ্রাবণ।
বুধবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কুশিয়ারা মোল্লাবাড়ি এলাকায় তাদের বাসভবনে নিহত রেস্তোরাঁ ম্যানেজার শফিউল আলম কাজলের পরিবার সদস্যদের সঙ্গে কথা হয়। এ সময় পরীক্ষার ফলাফলের কথা বলতে গিয়ে তিনি বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বাবার কথা মনে করে কথা জড়িয়ে আসছিল। একপর্যায়ে চোখ বেয়ে পানি ঝরছিল। চোখ মুছতে মুছতে বাবার স্বপ্ন পূরণের কথা জানিয়েছেন।
বাবার প্রত্যাশা ছিল মেয়ে বড় হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট হবে। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে পড়াশোনা করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, বাবার ইচ্ছা ছিল আমি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করব। পড়াশোনা শেষে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট হব। বাবার এই ইচ্ছার পাশাপাশি আমার ইচ্ছে আছে বিদেশ থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করব। বাবা বেঁচে থাকতে এই ইচ্ছের কথা বাবাকে জানানোর পরে তিনি রাজিও হয়েছিলেন। কিন্তু সেই পর্যন্ত আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে রাখেননি। এটাই আফসোস। তবে এখন আমার প্রথম পছন্দ ম্যাজিস্ট্রেট হওয়া।
বাবাকে মিস করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাবাকে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে জড়িয়ে ধরতাম। আমাকে খুব আদর করত। আবার রাতে ঘুমানোর সময়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাতাম। এখন আর কে আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুম পাড়াবে?’
শ্রাবনণ আরও বলেন, হাজী আবদুল মালেক হাই স্কুলে ব্যবসা বিভাগ থেকে পড়াশোনা করে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৮ পেয়েছি। ওই পরীক্ষায় গণিত বিষয়ে সামান্য নম্বর কম পাওয়ায় জিপিএ-৫ পাইনি। পরে বিভাগ পরিবর্তন করে নারায়ণগঞ্জ গর্ভমেন্ট মহিলা কলেজে মানবিক বিভাগ থেকে পড়াশোনা করেছি। আজ এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট বেরিয়েছে, জিপিএ-৫ পেয়েছি। তবে আজ বাবা বেঁচে নেই। তিনি বেঁচে থাকলে তাকে বলতে পারতাম ‘বাবা তোমার মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তোমার স্বপ্ন পূরণে ভালো ফলাফল করেছি।
দুই মেয়ে ও স্ত্রী আসমা জামানকে নিয়ে বন্দরের কুশিয়ারা মোল্লাবাড়ি এলাকায় বসবাস করতেন নিহত শফিউল আলম কাজল। তার ছোট মেয়ের তাসনিয়া তারান্নুন ইকরা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ শহরের ‘সুলতান ভাই কাচ্চির’ মালিক শুক্কুর আলীর সঙ্গে বিলের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ভবন মালিক আজাহার তালুকদারের ছোড়া গুলিতে ম্যানেজার শফিউল আলম কাজল নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের চাষাঢ়া এলাকা এ ঘটনা ঘটে। সোমবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত কাজল নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের শাহ আলমের ছেলে। তিনি বন্দরের নবীগঞ্জের কুশিয়ারা এলাকায় বসবাস করতেন।
এ ঘটনায় রেস্তোরাঁর মালিক শুক্কুর আলী বাদী হয়ে মামলা করলে ওই দিন রতেই পুলিশ আজাহার ও তার ছেলে আরিফ তালুকদারকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের আদালতে তোলা হলে দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

Join the conversation