11:19:15 am
Saturday, August 22

আবাসিক হলে আটকে রেখে মারধর, ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার নাম অসিত পাল। তিনি বাংলা বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম বরকত হলে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ওয়ালিউল্লাহ বলেন, আমি আমার গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য খিলগাঁও থেকে সদরঘাটের বাসে উঠি। পথিমধ্যে আমাকে মাদক প্রয়োগ করে নিষ্ক্রিয় করে ফেলা হয়। যখন কিছুটা জ্ঞান ফেরে তখন আমি দেখি আমাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আনা হয়েছে। এরপর আমাকে শহীদ সালাম বরকত হলের ২১৪নং কক্ষে নেওয়া হয়। 

অসিত পাল শহীদ সালাম বরকত হলের ২১৪/এ নং কক্ষে থাকেন। এছাড়া তার সঙ্গে আরও তিনজন এ কাজে অংশ নেয় বলে নিশ্চিত করেন ভুক্তভোগী ওয়ালিউল্লাহ। তবে তাদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, কক্ষটিতে নিয়ে আমাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। আমার কাছে থাকা ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যায় এবং আমার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকাশের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার টাকা আনা হয়। কিন্তু তারা আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করে আমাকে মারধর করতে থাকে। চাকু বের করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এমনকি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলানোর হুমকিও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আর টাকা দিতে না পারলে মারধর করে ২০০ টাকা হাতে দিয়ে আমাকে ক্যাম্পাস ছাড়তে বলা হয়। পরে আমি এখান থেকে বের হয়ে যেতে এক নারী শিক্ষার্থীর সহযোগিতা চাই। তাকে ঘটনার বিস্তারিত বললে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের জানান।

ভুক্তভোগী ওয়ালিউল্লাহ (৩০) বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জের নোয়াগাঁও এলাকায়। তিনি ঢাকার তিতুমীর সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক (সম্মান) পাস করে বর্তমানে একটি বেসরকারি জুতা কোম্পানিতে চাকরিরত রয়েছেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে নিয়ে সম্ভাব্য কক্ষগুলো পরিদর্শন করেন সালাম বরকত হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সুকল্যাণ কুমার কুন্ডু। পরিদর্শনকালে ভুক্তভোগী ওয়ালিউল্লাহ অসিত পালের রুমে গিয়ে নিশ্চিত করেন সেখানেই তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। পরবর্তীতে রুম তল্লাশি করে নির্যাতনের আলামত কিছু মাদক পাওয়া যায়। 

হলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এই কক্ষটিতে প্রায় সময় নানা ব্যক্তিদের এনে মারধর করা হয় এবং টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। অসিত পালের বিরুদ্ধে হলের অভ্যন্তরে ইয়াবার ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক ও হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক সুকল্যাণ কুমার কুন্ডু বলেন, ভুক্তভোগী ব্যক্তির ওপর স্কোপালামিন নামক ভয়ংকর এক মাদক প্রয়োগ করা হয়েছিল। পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগীর ব্লাড এবং ইউরিন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে কারা জড়িত। কীভাবে জড়িত আমরা তদন্ত করে দেখব। এ ঘটনায় আমাদের হলের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছি। তবে আরো কিছু বিষয় আছে তদন্তের স্বার্থে এখন বলছি না। পুরো ঘটনা তদন্তে প্রয়োজনে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নিবো।  

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকে হলে পাওয়া যায়নি। একাধিকবার মোবাইলে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেনি এবং তার ব্যবহৃত  ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি ডিএক্টিভ পাওয়া গেছে। 

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি আক্তারুজ্জামান সোহেল বলেন, অভিযোগের সত্যতা পেলে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। তবে জানতে পেরেছি অভিযোগকারী নিজ ইচ্ছাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে এসেছিলেন এবং তারা একই গ্রুপের লোক হতে পারে বলে ধারণা করছি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট হল প্রাধ্যক্ষকে প্রাথমিক তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছি। এ ধরনের অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this post

Join the conversation