কক্ষে ছাত্রলীগ নেতা, বাইরে নেত্রীকে মারল কর্মীরা
ঢাকার সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে এক নারী নেত্রীকে মারধর ও লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গনে এ ঘটনা ঘটে। রাতেই এ ঘটনায় সূত্রাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযুক্ত ওই ছাত্রলীগ কর্মীর নাম মো. রাকিবুল হাসান রাকিব। সে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী ও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অনুসারী। আর ভুক্তভোগী ছাত্রলীগের নারী নেত্রী সাদিয়া খন্দকার সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রী ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য।
ভুক্তভোগী সাদিয়া খন্দকারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাকিব দীর্ঘদিন ধরেই তাকে নানাভাবে হয়রানির চেষ্টা করছিল। এ নিয়ে সে উপরস্থ নেতাদের জানালেও তারা বিষয়টি নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সম্প্রতি রাকিব তার নামে বিভিন্ন জায়গায় নানা কু-রটনা ছড়াতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্যাম্পাসে রাকিবের মুখোমুখি হন সাদিয়া। এ নিয়ে জানতে চাওয়ায় সে ক্ষুব্ধ হয়ে সাদিয়ার ওপর চড়াও হয়। তাকে চড়-থাপ্পর, কিলঘুষি মারতে থাকে। পরে সে মার থেকে বাঁচতে কলেজের ছাত্র সংসদের কক্ষের সামনে চলে যায়।
সাদিয়ার অভিযোগ, ওই সময় কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান আশিক সংসদের ভেতরে থেকে সব শুনলেও সে এগিয়ে এসে রাকিবকে থামায়নি। এমনকি তাকে নিবৃতও করেনি। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সে থানায় মামলা দায়ের করে।
এ বিষয়ে জানতে মো. রাকিবুল হাসান রাকিবের নম্বরে ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি তার ফোন বন্ধ করে ফেলেন। এরপরেও কয়েকবার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান বলেন, সে আমার অনুসারী নয়। আরও অনেকেই আমাদের কর্মসূচিতে আসে। তারা ছাত্রলীগের কর্মী। কোনো ব্যক্তির নয়। আমি বিষয়টি শুনে তখনই ব্যবস্থা নিয়েছি। সাদিয়া আইনি ব্যবস্থা নিলেও আমরা সহায়তা করব।
ডিএমপির সূত্রাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মইনুল ইসলাম বলেন, গতকাল রাতেই ওই ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Join the conversation