এক বছরেও সন্ধান মেলেনি অগ্নিদগ্ধ ও নিখোঁজ ৩০ জনের
এক বছরেও সন্ধান মেলেনি সুগন্ধা লঞ্চে অগ্নিদগ্ধ ও নিখোঁজ ৩০ জনের। ২০২১ সালের ২৩ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে বরগুনার উদ্দেশে ছেড়ে আসা লঞ্চটি ২৪ ডিসেম্বর ভোররাতে অগ্নিকাণ্ডে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ৩৬ জনের। আর নদী থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ৪ জনকে। এ ছাড়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় বরিশাল ও ঢাকায় হাসপাতালে মৃত্যু হয় ৭ জনের। এ ৪৭টি মরদেহের মধ্যে ১৭ জনকে শনাক্ত করা গেলেও বাকি ৩০ জন অজ্ঞাতনামা হিসেবেই রয়ে গেছে।
এক বছরেও সন্ধান মেলেনি সুগন্ধা লঞ্চে অগ্নিদগ্ধ ও নিখোঁজ ৩০ জনের। ২০২১ সালের ২৩ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে বরগুনার উদ্দেশে ছেড়ে আসা লঞ্চটি ২৪ ডিসেম্বর ভোররাতে অগ্নিকাণ্ডে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ৩৬ জনের। আর নদী থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ৪ জনকে। এ ছাড়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় বরিশাল ও ঢাকায় হাসপাতালে মৃত্যু হয় ৭ জনের। এ ৪৭টি মরদেহের মধ্যে ১৭ জনকে শনাক্ত করা গেলেও বাকি ৩০ জন অজ্ঞাতনামা হিসেবেই রয়ে গেছে।
নিখোঁজদের মধ্যে ১৩ শিশু, ১১ নারী ও পুরুষ রয়েছেন ৮ জন। নিখোঁজ ৩২ জনের জন্য ডিএনএ নমুনা দিয়েছেন ৫১ জন স্বজন। এই অগ্নিকাণ্ডের পর গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-ঝালকাঠি-বরগুনা-মোংলা নৌ-পথে নৌ-ফায়ার স্টেশন ও নৌ-পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী ও লঞ্চকর্মীরা। সেই দাবিও বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
ইতিমধ্যে পোড়া লঞ্চটিও সংশ্লিষ্ট আদালতের নির্দেশে নিয়ে গেছে মালিক পক্ষ। তবে এখনও চূড়ান্ত রিপোর্ট দেননি লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সদর থানার উপ-পরিদর্শক নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ২০২১ সালের ২৪ ডিসেম্বর সুগন্ধা নদীতে অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের পর এক নিহতের স্বজন মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তি একটি এজাহার দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত শুরু করলে সংশ্লিষ্ট আদালত ঢাকার নৌ আদালতে মামলাটির নথিপত্র হস্তান্তর করে। এ মামলার তদন্তে এখনও ডিএনএ রিপোর্টের জন্য অপেক্ষমাণ আছি। ডিএনএ রিপোর্ট পেলে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। নৌ আদালতে মামলাটি চলমান আছে।
তিনি বলেন, নৌ আদালতের নির্দেশে মালিকদের জিম্মায় লঞ্চ হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার দিন ৩৬টি লাশের সুরতহাল করে ১৪ জনের মৃতদেহ শনাক্ত করি। প্রথমত আমরা ৪ জনকে এবং বরগুনার জেলা প্রশাসক ৯ জনকে শনাক্ত করেন। তাসহ ডিএনএ রিপোর্টে সর্বমোট আমরা ১৭ জনকে শনাক্ত করতে পেরেছি। অতিরিক্ত পোড়ার কারণে ডিএনএ প্রোফাইলে ১৬ জনের এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন দিতে পারেনি। শনাক্তকৃতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তথ্য মতে, অভিযান-১০ লঞ্চ দুর্ঘটনায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৩ জনের মরদেহ বরগুনার গণকবরে দাফন করা হয়। ৮ জনের মরদেহ তাদের পরিবার নিয়ে যায়। বাকি মৃত ১৬ জনের পরিচয় শনাক্তের জন্য ৫১ জন স্বজন ডিএনএ নমুনা দিয়েছেন। তবে এক বছরেও শেষ হয়নি ডিএনএ পরীক্ষা।
সুগন্ধা নদীতীরের বাসিন্দারা দাবি জানিয়েছেন, ঢাকা-ঝালকাঠি-বরগুনা-মোংলা নৌ-পথে প্রতিদিন যাতায়াত করে যাত্রীবাহী লঞ্চ ও পণ্যবাহী জাহাজ। খুলনা ও মোংলায় যেতে গাবখান কৃত্রিম চ্যানেল রয়েছে। তাই অবিলম্বে সুগন্ধা, বিষখালী ও গাবখান নদীর মোহনায় একটি নৌ-ফায়ার স্টেশন ও নৌ-পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করতে হবে।
গাবখান চ্যানেল দিয়ে খুলনা, মোংলা ও কলকাতায় অনেক নৌযান চলাচল করে। এ ছাড়া বরগুনা, পাথরঘাটা, বরিশাল ও ঢাকায় পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল করে।
এ অবস্থায় ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নৌ-ফায়ার স্টেশনের জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু এক বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। আমাদের আপ্রাণ চেষ্টা রয়েছে, যাতে ঝালকাঠিতে একটি নৌ-ফায়ার স্টেশন হয়। এতে ডুবুরিদলও থাকবে; দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো যাবে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৩ নভেম্বর রাতে ঢাকা সদরঘাট থেকে ছয় শতাধিক যাত্রী নিয়ে বরগুনার উদ্দেশে ঘাট ত্যাগ করে অভিযান-১০ লঞ্চ। গভীর রাতে লঞ্চটি ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর মোহনায় এলে ইঞ্জিন বিস্ফোরিত হয়ে পুরো লঞ্চে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে নদীতে লঞ্চটি জ্বলে। পরে সেটি ভাসতে ভাসতে দিয়াকুলের চরে আটকা পড়ে। জীবন বাঁচাতে অনেকে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় স্বজনহারা মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তি গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর ঝালকাঠি থানায় লঞ্চের মালিকসহ ৮ জনের নামে মামলা করেন। আসামিরা হলেন- লঞ্চের অন্যতম মালিক হামজালাল শেখ, ২ মাস্টার রিয়াজ সিকদার ও মো. খলিল, ২ চালক মাসুম ও কালাম, সুপারভাইজর আনোয়ার, সুকানি আহসান ও কেরানি কামরুল।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও নৌ-মন্ত্রণালয় দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে। দুটি কমিটিই লঞ্চের ইঞ্জিনকক্ষে বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ড ঘটে বলে প্রতিবেদন দেয়। এ জন্য লঞ্চের মালিক ও স্টাফদের দায়ী করা হয়।
অন্যদিকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি মামলাটি নৌ-আদালতে স্থানান্তর করা হয়। পোড়া লঞ্চটি আদালত মালিক পক্ষের জিম্মায় দেন।
