05:29:43 am
Sunday, August 23

৬৭ শতাংশ গৃহকর্মী মানসিক নির্যাতনের সম্মুখীন

দেশের গৃহকর্মীরা মাসে গড়ে ৫ হাজার ৩১১ টাকা বেতন পান, যেখানে তাদের মাসিক গড় ব্যয় ১০ হাজার ৮০১ টাকা। সাধারণত পেশার সহজলভ্যতা ও বিবাহ বিচ্ছেদজনিত কারণে গৃহকর্মীর কাজ বেছে নেন নারীরা। কিন্তু ৪২ শতাংশ আবাসিক গৃহকর্মী বসার ঘর কিংবা রান্নাঘরের মতো খোলা জায়গায় ঘুমান। ৯৬ শতাংশ গৃহকর্মী বলেছেন, তাদের বর্তমান মজুরি মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিল্স) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।

এতে আরও বলা হয়, দেশের ৬৭ শতাংশ গৃহকর্মী মানসিক নির্যাতনের সম্মুখীন হয়েছেন। ৭৫ শতাংশ গৃহকর্মী বস্তিতে বাস করেন। ৮৭ শতাংশ কোনো সাপ্তাহিক ছুটি পান না। শত ভাগ গৃহকর্মীই মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে কাজ করেন। ২৬ শতাংশ গৃহকর্মী কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতি বা বিলম্বের কারণে মজুরি কর্তনের শিকার হয়েছেন। আবাসিক গৃহকর্মীরা দৈনিক ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করেন। শোভন কাজ ও কর্মক্ষেত্রে জেন্ডার সহিংসতা বিষয়ে বাংলাদেশের গৃহশ্রমিকদের উপর পরিচালিত একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।


বক্তারা বলেন, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে গৃহশ্রমিকের শোভন কাজ নিশ্চিত করা সম্ভব এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রমে যদি গৃহশ্রমিকের মর্যাদার বিষয়টি যুক্ত করা যায় তাহলে তা সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে সহায়ক হবে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার আওতায় আনতে তাদের শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত করা এবং গৃহশ্রমিকের জন্য শোভন কাজ সংক্রান্ত আইএলও কনভেনশন-১৮৯ অনুস্বাক্ষর করা জরুরি।

গ্লোবাল এফেয়ার্স কানাডা এবং অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের সহযোগিতায় পরিচালিত “সুনীতি” (সিকিউরিং রাইটস অফ উইমেন ডোমেস্টিক ওয়ার্কাস ইন বাংলাদেশ) প্রকল্পের আওতায় গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণার মূল উদ্দেশ্য, নারী গৃহকর্মীদের শ্রম অধিকার ও জেন্ডার সহিংসতার বর্তমান পরিস্থিতি অন্বেষণের পাশাপাশি নারী গৃহকর্মীদের শোভন কাজ নিশ্চিতকরণের বিদ্যমান সুযোগ বা প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করা।

বিল্স এর যুগ্ম মহাসচিব ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত সচিব (অব.) ও বিশ্বব্যাংকের পরামর্শক এবিএম খোরশেদ আলম, শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক বেল্লাল হোসেন শেখ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশের উপপরিচালক সুস্মিতা পাইক। এছাড়া ট্রেড ইউনিয়ন ও নাগরিক সমাজ নেতৃবৃন্দ, নিয়োগকারী ও গৃহশ্রমিক ও মিডিয়া প্রতিনিধি বৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

Share this post

Join the conversation