08:04:36 pm
Sunday, June 21

তুরস্ক-সিরিয়া ভূমিকম্প: ধ্বংসস্তূপের পরতে পরতে জীবনছবি

ভূমিকম্পে যারা প্রাণ হারিয়েছে, বিধ্বস্ত ভবনগুলোর পরতে পরতে দেখা যাচ্ছে তাদের জীবনছবি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলছে, ঐতিহাসিকভাবে অ্যান্টিওক নামে পরিচিত তুরস্কের হাতায়া প্রদেশের প্রাচীন শহর আন্তাক্যায় ধসে পড়েছে অনেক ভবন। সেগুলো দেখে ধ্বংসের মাত্রা বোঝা কঠিন। ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর শত শত আফটারশক সহ্য করে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় প্রতিটি ভবনেই রয়েছে বড় বড় ফাটল। কোনো কোনো ভবনের অর্ধেকটা টিকে আছে, আবার কোনোটা ঝুঁকিপূর্ণভাবে হেলে পড়েছে। অর্ধেক ধসে পড়া ভবনগুলোর দেয়াল যেন মুহূর্তের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া প্রাণের অস্তিত্বকে সামনে নিয়ে আসে।

ভূমিকম্পে যারা প্রাণ হারিয়েছে, বিধ্বস্ত ভবনগুলোর পরতে পরতে দেখা যাচ্ছে তাদের জীবনছবি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলছে, ঐতিহাসিকভাবে অ্যান্টিওক নামে পরিচিত তুরস্কের হাতায়া প্রদেশের প্রাচীন শহর আন্তাক্যায় ধসে পড়েছে অনেক ভবন। সেগুলো দেখে ধ্বংসের মাত্রা বোঝা কঠিন। ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর শত শত আফটারশক সহ্য করে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় প্রতিটি ভবনেই রয়েছে বড় বড় ফাটল। কোনো কোনো ভবনের অর্ধেকটা টিকে আছে, আবার কোনোটা ঝুঁকিপূর্ণভাবে হেলে পড়েছে। অর্ধেক ধসে পড়া ভবনগুলোর দেয়াল যেন মুহূর্তের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া প্রাণের অস্তিত্বকে সামনে নিয়ে আসে।
 
এসব ভবনের প্রায় প্রতিটিতেই ভাঙা কংক্রিট ও পেঁচানো রডে বেঁধে থাকা আসবাবপত্র, হাস্যোজ্জ্বল পরিবারিক ছবির অ্যালবাম, জামাকাপড় ও খোলা আলমারি চোখে পড়ে। কত হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা এক ছাদের নিচে ভাগাভাগি করেছেন মারা যাওয়া মানুষগুলো। এখন সেসব শুধুই স্মৃতি। জীবন কতটা অনিশ্চিত, এ ভবনগুলো যেন তা বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
 
তুরস্ক-সিরিয়ার ভূমিকম্পের পর গত কয়েকদিন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবকসহ বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনী পুরোদমে উদ্ধারকাজ চালালেও সোমবার অভিযানের সপ্তম দিনে এসে আস্তে আস্তে কমতে শুরু করেছে উদ্ধার অভিযানের গতি। প্রথমদিকে অনেককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, সময় যত গড়িয়েছে জীবিত উদ্ধারের আশা ততই কমেছে। বাংলাদেশের স্থানীয় সময় সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই খবর লেখার সময় ভূমিকম্প আঘাত হানার দেড়শ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়েছে। এতক্ষণ ধরে খাবার-পানি ছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে বেঁচে থাকা অলৌকিক ছাড়া আর কিছুই না। তাই উদ্ধারকারীরা বলছেন, এখন শুধু মরদেহই পাওয়া যাবে। যদিও, সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মোস্তফা সারিগুল (৩৫) নামের এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
 
আভসারোগলু নামের এক উদ্ধারকর্মী বলেন, তুরস্কের প্রাচীন শহর আন্তাক্যাতে ধসে পড়া অ্যাপার্টমেন্টের নিচে চাপা পড়েছিল আমার বোন, তার স্বামী ও তাদের দুই সন্তান। মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত পর্যন্ত তারা জীবিত ছিল। কিন্তু ধ্বংসস্তূপের গভীরে থাকা একটি জেনারেটর থেকে আগুন লাগার পর তাদের আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কান্নারত আভসারোগলু বলেন, ৫ দিন পর রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভবনটির অবশিষ্টাংশ সরিয়ে আমার বোন ও তার পরিবারের সদস্যদের মরদেহ বের করে আনার চেষ্টা করি। কিন্তু মরদেহ তো দূরের কথা, তাদের কোনো চিহ্নই খুঁজে পাইনি। সম্ভবত তারা সবাই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, আগুন লেগে যাওয়া ব্লকটিতে প্রায় ৮০ জন বাস করতেন। তাদের মধ্যে আগুন লাগার আগে ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়। পরে ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু কিছু মরদেহের অবস্থা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, সেগুলোর হাড় ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি।
 
ভূমিকম্পে ধসে পড়া বেশ কয়েকটি ভবনেই এমন আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। সেসব ভবনের নিচে চাপা পড়া মানুষগুলোর অবস্থাও হয়তো একই রকম। হাড় ছাড়া হয়তো তাদের শরীরের আর অংশই অবশিষ্ট থাকবে না।
 
আন্তাক্যায় উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ভারতীয় দলের এক উদ্ধারকারী বলেন, ৪ দিন ধরে আমরা শুধু মরদেহই উদ্ধার করছি। এখন পর্যন্ত একজন জীবিত মানুষকে খুঁজে পাইনি। আমরা জীবিত কাউকে উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু তা আর সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না। পাশের রাস্তায় এক নারীকে ভারাক্রান্ত মুখে মাটিতে শুইয়ে রাখা লাশের পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। চোখে-মুখে তার রাজ্যের চিন্তা। বিড় বিড় করে বলতে থাকেন, নিজেকে ঠিক রাখতে হবে, নিজেকে ঠিক রাখতে হবে।
 
স্থানীয় এক টেক্সটাইল দোকানের মালিক সেরিজান আগবাস বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর এখানে কাজ করেছি। আমার দোকানটি এখন ৫ তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ভবনে অবস্থানরত প্রায় ১০০ জন। আমার বাড়িটা অবশ্য ঠিক রয়েছে। কিন্তু চোখের সামনে শহরজুড়ে যে দৃশ্য দেখছি, তাতে নিজেকে ঠিক রাখা কঠিন।
 
আগবাস ও তার কিছু প্রতিবেশী বলেন, এখন আমাদের তাঁবু ও অন্যান্য সহায়তা প্রয়োজন। বেঁচে থাকা মানুষগুলোর মানসিক সমর্থন দরকার। আমরা সরকারের কাছ থেকে কিছু পাওয়ার আশা করছি না, নিজেদেরকেই সব ঠিক করতে হবে।