07:12:14 am
Sunday, August 23

তুরস্কের বেদনাদায়ক বিপর্যয়  

ভূমিকম্পের কারণে তুরস্ক আগের অবস্থান থেকে প্রায় ১০ ফুট পশ্চিমে সরে গেছে বলে জানিয়েছেন ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জিওফিজিক্স ও ভলকানোলজির প্রধান প্রফেসর কার্লো দগলিওনি। ভূগর্ভস্থ ইস্টার্ন আনাতোলিয়ান প্লেটের সঙ্গে অ্যারাবিয়ান প্লেট ও আফ্রিকান প্লেটের সংযোগস্থলে ভূমিকম্পের উৎপত্তির ফলে এ অবস্থা হয়েছে।

ভূতত্ত্ববিদ দগলিওনি বলেন, ভূগর্ভস্থ দুটি বিচ্যুতিরেখা (সিসমিক ফল্টলাইন) তুরস্কের মধ্য দিয়ে গেছে। এর মধ্যে একটি বিচ্যুতিরেখায় আনাতোলিয়ান প্লেটের সঙ্গে অ্যারাবিয়ান ও আফ্রিকান প্লেটের প্রচণ্ড সংঘর্ষ ঘটেছে। তিনি এখন পর্যন্ত অনুমান করছেন যে, তুরস্ক আগের অবস্থান থেকে ৩ মিটার বা ৯ দশমিক ৮৪ ফুট পশ্চিমে সরে গেছে। স্যাটেলাইট ডাটা পর্যবেক্ষণের পর আরও নির্দিষ্টভাবে বলা যাবে দেশটি ঠিক কতখানি বিচ্যুত হয়েছে। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তুরস্কের কাহরামানমারাসে এবারের ভূমিকম্প ইতালিতে ২০১৬ সালের ভূমিকম্পের তুলনায় হাজার গুণ শক্তিশালী ছিল। সোমবার ভোর ৩টা ১৭ মিনিটে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের পর একই দিন দুপুরে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয় শহরটিতে।

ভূমিকম্পের পর পুরো অঞ্চলে ভ‚গর্ভস্থ চাপ পুনর্বণ্টন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাচ ভ‚তত্ত¡বিদ ফ্র্যাঙ্ক হুগারবিটস। তুরস্কে ভূমিকম্পের তিন দিন আগে যথার্থ পূর্বাভাস দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া এ গবেষকের মতে, স্পষ্টত তুরস্কের চারপাশের পুরো অঞ্চল নতুন করে থিতু হচ্ছে। ভ‚গর্ভস্থ চাপ পুনর্বণ্টনের ফলে ফিলিস্তিনের দিকে ভ‚কম্পনের প্রবণতা বাড়বে।

সোলার সিস্টেম জিওমেট্রিক সার্ভে নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মরত হুগারবিটস গত ৩ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চল, জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন অঞ্চলে আগে-পরে একটি ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভ‚মিকম্প হবে বলে পূর্বাভাস দেন। পৃথিবীর সঙ্গে সৌরজগতের গ্রহগুলোর জ্যামিতিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়া হয় বলে দাবি করেন হুগারবিটস। যদিও তার এ পূর্বাভাস পদ্ধতি বিজ্ঞানসম্মত নয় বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানী ও গবেষকরা।

তুরস্ক ও সিরিয়ায় গত এক সপ্তাহ আগে হওয়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে উদ্ধারকারীরা এখনও ধ্বংসস্ত‚পে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ ধ্বংসস্ত‚পের নিচে আটকে আছেন। উদ্ধারকাজ এখনও চললেও জীবিত উদ্ধারের আশা সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষীণ হয়ে আসছে।

এদিকে স্থানীয় সময় শনিবার অনুসন্ধান অভিযান স্থগিত করেছেন জার্মান উদ্ধারকারীরা এবং অস্ট্রিয়ান সেনাবাহিনী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উদ্ধারকারী জানান, খাদ্য সরবরাহ কমে যাওয়ায় নিরাপত্তা আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে লুটপাটের অভিযোগে প্রায় ৫০ জনকে গ্রেফতার করেছে সে দেশের পুলিশ। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি বন্দুকও জব্দ করা হয়েছে। 

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান সতর্ক করে দিয়েছেন, এ পরিস্থিতিতে কেউ আইন ভঙ্গ করলে জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করবে তার সরকার। অস্ট্রিয়ান সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, হাতায় প্রদেশে অজ্ঞাত গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ফলে অস্ট্রিয়ান ফোর্সেস ডিজাস্টার রিলিফ ইউনিটের কয়েক ডজন কর্মী অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে একটি বেস ক্যাম্পে আশ্রয় চেয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তুর্কি কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিরাপদ মনে করার সঙ্গে সঙ্গে আবার কাজ শুরু করবে জার্মান উদ্ধারকারী দলগুলো। এক বিবৃতিতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পিয়েরে কুগেলওয়েস বলেছেন, তুরস্কে দলগুলোর মধ্যে আগ্রাসন বাড়ছে।

অস্ট্রিয়া উদ্ধার প্রচেষ্টা স্থগিত করার কয়েক ঘণ্টা পরে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তুর্কি সেনাবাহিনী সুরক্ষা দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে। উদ্ধার অভিযান পুনরায় শুরু করার অনুমতি দিয়েছে তারা।

সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ গ্রুপ আইএসএআর এবং জার্মানির ফেডারেল এজেন্সি ফর টেকনিক্যাল রিলিফের জার্মান শাখাও নিরাপত্তা উদ্বেগ উল্লেখ করে অপারেশন স্থগিত করেছে।
আইএসএআরের মুখপাত্র স্টেফান হাইন বলেছেন, বিভিন্ন দলের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে এবং গুলিও চালানো হয়েছে।

তুরস্কে ভূমিকম্পে ধসেপড়া ভবনগুলো নির্মাণে ত্রুটির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারসহ ১১৩ জনকে গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি করেছে সরকার। এরই মধ্যে কয়েক ঠিকাদারসহ ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভবন নির্মাণ-সংক্রান্ত নিয়মনীতির কঠোর বাস্তবায়ন হলে এত বেশি প্রাণহানি এড়ানো যেত কি না, প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সরকার এ বিষয়ে আরও কিছু করতে পারত কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তুরস্কে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কঠোর আইনই চালু রয়েছে। তবে চরম দুর্নীতি ও এরদোগান সরকারের নিয়মনীতির শৈথিল্যের কারণে অনেক ভবনই আইন মেনে নির্মাণ করা হয় না। এমনকি আইন না মেনে কোনো ভবন নির্মাণ ধরা পড়লেও জরিমানা দিয়ে রেহাই পাওয়া যায়।

গত সপ্তাহে যেসব অঞ্চলে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, সেখানেও আইনবহিভর্‚তভাবে নির্মিত অনেক বহুতল ভবন রয়েছে, যারা সরকারকে জরিমানা দিয়ে ওই ক্ষমার সুযোগ পেয়েছে। ভূমিকম্পের পর এ নিয়ে এরদোগান সরকারের তুমুল সমালোচনাও শুরু হয়েছে। তুরস্কে কয়েক মাস পরেই জাতীয় নির্বাচন। অনেকে মনে করছেন, ভয়াবহ এই ভ‚মিকম্প এরদোগানের আগামী নির্বাচনি প্রস্তুতিতেও বড় ধাক্কা দেবে। একে তো দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে, তার ওপর ভ‚মিকম্পের ধাক্কা।

এদিকে দুর্গত এলাকায় খাদ্য-পানীয়সহ প্রয়োজনীয় ত্রাণের সংকট শুরু হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভ‚মিকম্প উপদ্রুত এলাকায় খাবারের সংকটে রয়েছেন আট লাখের বেশি মানুষ। তুরস্কে দুর্গত মানুষের সাহায্যার্থে তিন কোটি ডলার দান করেছেন পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাকিস্তানি ব্যবসায়ী। তুরস্কের নগরায়ণমন্ত্রী মুরাত কুরুম এ কথা জানিয়েছেন। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

টেলিভিশনে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে যেমন আমরা সাহায্যের বিষয়ে সাড়া পাচ্ছি, তেমনি ব্যক্তি পর্যায়েও অনেকে এগিয়ে এসেছেন। একজন পাকিস্তানি ব্যবসায়ী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত তুর্কি দূতাবাসে হাজির হয়ে ৩০ মিলিয়ন (৩ কোটি) ডলার দান করেছেন। আমরা জানি না তার পরিচয় কী। দূতাবাসকে তিনি পরিচয় অপ্রকাশিত রাখার অনুরোধ করেছেন।

তুরস্ক ও আর্মেনিয়ার মধ্যে যোগাযোগ সহজতর করতে ১৯৬৩ সালে নির্মিত হয়েছিল মারগারা সেতু। আর্মেনিয়ার মারগারা ও তুরস্কের আকিন শহরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে সেতুটি।

নগর্নো-কারাবাখ ইস্যুতে আজারবাইজানের প্রতি তুরস্কের সমর্থনসহ বিভিন্ন কারণে ১৯৯৩ সাল থেকে বন্ধ ছিল মারগারা সেতু। ৩০ বছর পর সেতুটি আবার খুলেছে ভ‚মিকম্পের পর। এরই মধ্যে আরমেনিয়া থেকে জরুরি সাহায্যসামগ্রী ও উদ্ধারকর্মীদের নিয়ে বেশকিছু যানবাহন সেতু পাড়ি দিয়ে তুরস্কে পৌঁছেছে।

একইভাবে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম আতাতুর্ক বাঁধের মাধ্যমে তুরস্কে পানি ধরে রাখায় ফোরাত নদী অববাহিকার ইরাকি অঞ্চলগুলোতে খরাবস্থা চলছিল। ভাটিতে ফোরাতের পানিও দিন দিন কমছিল। ভূমিকম্পের কারণে আতাতুর্ক বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এ কারণে নিরাপত্তাজনিত বিবেচনা থেকে তুরস্ক সরকার ওই বাঁধ থেকে সীমিত মাত্রায় পানি ছাড়তে শুরু করেছে। দুর্গতদের সাহায্যের জন্য সিরিয়া সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ আসেনি বলে জানিয়েছে পাশ্চাত্যের কয়েকটি দেশের সরকার। এ নিয়ে এক টুইটে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ লিখেছেন, তারা বলছেন সিরিয়া সাহায্যের আবেদন জানায়নি, তাই এগিয়ে আসেননি। তারা কি আশা করছেন যে সিরিয়ার দুর্গত মানুষ খোঁড়া পায়ে গিয়ে তাদের কাছে হাত পাতবে?

এর আগে গতকাল আলেপ্পোতে দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বাশার আল-আসাদ বলেন, ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ একটি মানবিক ইস্যু হলেও যারা এসব নিয়ে রাজনীতি করতে চান, তারা মানবিক আবেদন টের পান না। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান জানিয়েছেন, গত সোমবারের বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে লুটপাট ও অন্যান্য অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। দুর্যোগকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেছেন।

শনিবার ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনকালে এরদোগান বলেন, ‘আমরা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছি। এর মানে হলো, এখন থেকে যারা লুটপাট বা অপহরণের সঙ্গে জড়িত তাদের জানা উচিত যে তাদের পিঠে রাষ্ট্রের শক্ত হাত রয়েছে।’ 

এর আগে শুক্রবার তিনি জানিয়েছেন কিছু এলাকায় লুটপাট হয়েছে, তবে কোন অপহরণের ঘটনা তিনি উল্লেখ করেছেন তা স্পষ্ট নয়। তিনি আরও জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের ফলে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে কয়েক হাজার ভবন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ শিগগিরই এসব ভবন পুনর্নির্মাণ শুরু করবে। 

এদিকে অস্ট্রিয়ান সেনাবাহিনী ভূমিকম্পকবলিত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা স্থগিত করার পর নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র এটিকে ক্রমবর্ধমান কঠিন নিরাপত্তা পরিস্থিতি বলে অভিহিত করেছেন। 

সাম্প্রতিক প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত তুরস্ককে নিয়ে শার্লি হেবদোতে যে উসকানিমূলক কার্টুনটি ছাপা হয়েছিল, তার চমৎকার সম্পাদনা করে ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছেন ফিলিস্তিনি শিল্পী আবরার সাব্বাহ। খবর মিডলইস্টমনিটর।

৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্ক ও সিরিয়ায় বড় ধরনের ভ‚মিকম্প আঘাত হানে। এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজার মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ বিষয়টি নিয়ে উসকানিমূলক কার্টুন প্রকাশ করেছে ফ্রান্সের সমালোচিত ম্যাগাজিন শার্লি হেবদো। ওই কার্টুনের ওপরে লেখা ছিল তুর্কিয়ের ভূমিকম্প। আর নিচে লেখা ছিল, এখানে এমনকি ট্যাঙ্ক পাঠানোর দরকার ছিল না। তাদের ওই কার্টুন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

তবে এ কার্টুনের অন্য রকম প্রতিবাদ করেন ২৬ বছর বয়সি ফিলিস্তিনি কার্টুনিস্ট, চিত্রকর এবং গ্রাফিক ডিজাইনার আবরার সাব্বাহ। ওই কার্টুনটিকে সম্পাদনা করে ক্যাপশনসহ পোস্ট করেন। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আরে, অনৈতিক শার্লি হেবদো। এ রকম আর আঁকবে না। আমি যেভাবে এঁকেছি, এভাবেই তুমি আঁকবে! আমরা আবার উঠে দাঁড়াব, মানুষ আবার জেগে উঠবে!’

আবরার সাব্বাহ বলেন, ‘আমি শার্লি হেবদোর কার্টুনটি দেখেছি। আমরা যে কঠিন সময় পার করছি, এমন সময়ে তাদের এই কার্টুন দেখে লাখ লাখ মানুষের মতো আমিও ক্ষুব্ধ হয়েছি। আমার মতে, এটি একটি কার্টুন হতে পারে না। কেরিকেচারের মাধ্যমে অন্যকে উপহাস করা হয়, তবে যারা কষ্টে ভুগতে থাকেন, তাদের উপহাস করা উচিত নয়। 

সাব্বাহ বলেন, একই সঙ্গে আমি বার্তা পাঠাতে চেয়েছিলাম, তুরস্ক একটি শক্তিশালী দেশ এবং তুর্কি জনগণ শক্তিশালী মনের অধিকারী, যারা সহজে হাল ছেড়ে দেয় না। আমি আশা করি এই বার্তাটি ভালোভাবে পৌঁছেছে। 

ইউনিভার্সিটিতে পড়ার জন্য ছয় বছর ধরে তুরস্কে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি তরুণী আবরার সাব্বাহ বলেন, তুরস্কের যেকোনো বিপদে একজন তুর্কি নাগরিক যতটা ব্যথা অনুভব করেন, ততটাই তিনি অনুভব করেন। এ ভ‚মিকম্পে আমার মনে হয়েছিল যেন নিজের পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ওপর তিনি ওই কার্টুনে যে রকম ব্যথিত হয়েছিলেন, সেটাই তাকে কার্টুনটি পুনরায় আঁকতে বাধ্য করেছে।

আমি আশা করি, আমরা এই বেদনাদায়ক বিপর্যয় থেকে বেঁচে যাব। তুর্কি আবার জেগে উঠবে।

লেখক : অনুবাদক ও সাংবাদিক

Share this post

Join the conversation