03:11:46 am
Saturday, August 22

দলমত নির্বিশেষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিয়েছে আওয়ামী লীগ: প্রধানমন্ত্রী

দলমত নির্বিশেষে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেখানো কর্তব্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, একটা সময় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে দলমত নির্বিশেষে সব মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান জানানো নিজেদের কর্তব্য বলে মনে করে আওয়ামী লীগ।

বুধবার (১৫ ফেব্রয়ারি) গণভবন থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন ‘অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় ‘বীর নিবাস’র চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

৭৫ পরবর্তী সময়ে অবহেলিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা উল্লেখ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা যে মুক্তিযোদ্ধা এই কথাটাই মানুষকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। জাতির পিতার নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার ব্যবস্থা করেছি, তাদের নূন্যতম ভাতা এখন ২০ হাজার টাকা। তাছাড়া যাদের ঘর নাই, বাড়ি নাই, তাদের ঘরবাড়ি করে দিয়েছি। তাদের জন্য স্বাধীনতার ভাতা, বৈশাখী ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা, যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। যার ফলে মুক্তিযোদ্ধারা অত্যন্ত মাথা উঁচু করে বলতে পারেন যে হ্যাঁ আমরা মুক্তিযোদ্ধা, তার সন্তানরা যেন বলতে পারেন আমারা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। এই সম্মানটা আমরা দেবার চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা মারা গেলে তারা যেন সম্মান পায় সেই ব্যবস্থা করেছি। জাতির পিতা যেমন তাদের সন্তানদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন, নির্যাতিত মা-বোনদের জন্য একটা কোটা সিস্টেমের ব্যবস্থা করেছিলেন, আমরা সরকারে আসার পর শুধু মুক্তিযোদ্ধা না, তাদের সন্তান ও বংশ পরম্পরায় যারা আসবে তারাও যেন প্রতিটি ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রায় সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছি। 

তিনি আরও বলেন, গত ১৪ বছরের বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। আমরা এরইমধ্যে জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করেছি। রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন করেছি। উন্নয়নশীল বাংলাদেশের মর্যাদা পেয়েছি। ৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়বো।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও পাঁচ হাজার অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে বীর নিবাসের চাবি হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তী উপলক্ষে ২০২১ সালে সারা দেশে ৩০ হাজার বীর নিবাস নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করে সরকার। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। এ পর্যায়ে পাঁচ হাজার বাড়ি নির্মাণ শেষে হস্তান্তর করা হচ্ছে। বাড়িতে দুই বেডরুম, একটি ড্রইং ও একটি ডাইনিং, দুটি বাথরুম এবং একটি বারান্দা রয়েছে। চার শতাংশ জমিতে ৭৩২ বর্গফুট আয়তনের এক-একটি বাড়ির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ লাখ ১০ হাজার ৩৮২ টাকা।

Share this post

Join the conversation