03:08:58 pm
Friday, August 21

ফিক্সিং ইস্যু আকসুকে জানিয়েছে বিসিবি

জুয়াড়ির প্রস্তাব লুকিয়ে বড় শাস্তিই পেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ ক্রিকেটে সেটা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় কলঙ্ককর অধ্যায়। একই ঘটনা যেন লতা ম-লের সঙ্গে না ঘটে তার বন্দোবস্ত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সম্প্রতি এই নারী ক্রিকেটারকে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগকে (আকসুকে) জানিয়েছে বিসিবি।

চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশ করেছে যমুনা টিভি। তাদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ আফ্রিকায় নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলে থাকা লতাকে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন সোহেলী আক্তার, যিনি এখন জাতীয় দলের বাইরে আছেন। দুজনের দীর্ঘ সময়ের ফোনালাপও ফাঁস করেছে সংবাদমাধ্যমটি। আকাশ নামের এক জুয়াড়ির কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়ে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেছিলেন সোহেলী।

ফাঁস হওয়া ফোনালাপে সোহেলী লতাকে বলেছিলেন, ‘তোমার যদি মনে হয় ২০-৩০ লাখ অফারে তুমি হিট আউট হবা না, স্টাম্পিং হইয়ো। তাহলে ধরো ৫ লাখ, তুমি যদি মনে কর যে কম হয়ে যাচ্ছে তাহলে সেটাও বলতে পার। তাহলে আমি আমার ভাইকে বলব। এ কথা শুধু তোমার আর আমার মাঝেই থাকবে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি তোমার ক্ষতি কখনই করব না।’

সোহেলী আরও বলেন, ‘তোমার যখন ইচ্ছা তুমি খেলবা, যখন ইচ্ছা হবে না খেলবা না। তোমার মন চাইলে তুমি একটা খেলবা। কোন ম্যাচটা খেলবা তোমার ইচ্ছা, তুমি যে ম্যাচ অফার কর, তোমার সুবিধা মতো। ধরো একটা ম্যাচ তুমি ভালো খেললা, পরের ম্যাচে তুমি খেলতে পারো। স্ট্যাম্পিং, হিট আউট হতে পার। তুমি কিন্তু ভেবো না যে এ জিনিস প্রথম তুমিই করবা। আমাদের মধ্যে আরও অনেকে এগুলোর মধ্যে আছে।’

ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পর লতা তার সাবেক সতীর্থকে বলেছেন, ‘বান্ধবী আমি এগুলোর মধ্যে নেই। তুমি আমাকে এগুলো বইলো না। এগুলো আমাকে দিয়ে কখনো হবে না। আমাকে এসব বইলো না, প্লিজ।’ লতাকে রাজি করাতে সোহেলী তার সবটা দিয়েই চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে থাকা নারী ক্রিকেটারকে কোনোভাবেই বশ করতে পারেননি তিনি।
দুজনের সব কথাবার্তা ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে সোহেলীর সবশেষ বার্তায়। তিনি বলেছিলেন, ‘তুমি খেলো আর না খেলো আমাকে বলতে বলছে আমি মাধ্যম হয়ে বললাম তোমাকে। তুমি খেললে খেললা, না খেললে নাই। তুমি শুধু ইয়েস অর নো বইলো। আর তুমি ভয়েস মেসেজ শুনে ডিলিট করে দিও। আমিও ডিলিট করে দিব।’

এই ইস্যুতে তাৎক্ষণিক আকসুর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিসিবির হর্তাকর্তারা। বোর্ডের নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেছেন, ‘আমরা (ফিক্সিংয়ের বিষয়টি) শুনে সঙ্গে সঙ্গেই আইসিসিকে জানিয়ে দিয়েছি। আইসিসি এখন তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। আমাদের এই মুহূর্তে বলার কিছু নেই এবং করণীয়ও কিছু নেই। যেহেতু এটা আকসুর বিষয়, তারা সহযোগিতা চাইলে আমরা করব।’

বুধবার ক্রিকইনফোকে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেছেন, ‘আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট এই বিষয়গুলো দেখাশোনা করে। আমাদের খেলোয়াড়রা তাদের করণীয় সম্পর্কে অবগত। তারা জানে যে ইভেন্টের প্রোটোকল অনুযায়ী তাদের আকসুকে জানাতে হবে। এটা বিসিবির তদন্তের কোনো বিষয় নয়। প্রকাশিত সংবাদ নিয়েও আমরা কোনো প্রতিক্রিয়া বা কথা বলতে পারি না।’

Share this post

Join the conversation