হ্যান্ডবলে আনসারের ডাবল হ্যাটট্রিক
জাতীয় নারী হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। এই নিয়ে হ্যান্ডবলে ট্রফি জয়ের ডাবল হ্যাটট্রিক পূর্ণ করল সার্ভিসেস দলটি। সোমবার ফাইনালে যশোরের শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে পঞ্চগড় জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে ৩০-১৯ গোলে হারিয়েছে আনসারের মেয়েরা।
জাতীয় নারী হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। এই নিয়ে হ্যান্ডবলে ট্রফি জয়ের ডাবল হ্যাটট্রিক পূর্ণ করল সার্ভিসেস দলটি। সোমবার ফাইনালে যশোরের শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে পঞ্চগড় জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে ৩০-১৯ গোলে হারিয়েছে আনসারের মেয়েরা।
গতকাল খেলার শুরু থেকেই আধিপত্য দেখিয়ে প্রথমার্ধে ১৮-১১ গোলে এগিয়ে যায় আনসার। তবে দ্বিতীয়ার্ধে এক পর্যায়ে ব্যবধান কমিয়ে আনে পঞ্চগড়। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১৯-১৫। কিন্তু পঞ্চগড়ের মেয়েরা জাতীয় খেলোয়াড় সমৃদ্ধ আনসারের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত এঁটে উঠতে পারেনি। এবারের আসরে তৃতীয় স্থান লাভ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। মাদারীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে ২০-৫ গোলে হারিয়েছে তারা। প্রতিযোগিতায় সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন আনসারের আলপনা আক্তার।
জাতীয় হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতা প্রথম শুরু হয় ১৯৮৩ সালে। এবার ৩৪তম আসর। এবারেরটি নিয়ে এই প্রতিযোগিতায় আনসার শিরোপা জিতল ২২ বার। সর্বাধিক ফাইনাল খেলার কৃতিত্বও তাদেরই দখলে। সর্বমোট ৩৩ বার ফাইনাল খেলেছে তারা। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলল পঞ্চগড়। সেমিতে চোটের কারণে এবারের ফাইনালে খেলতে পারেননি দলটির অধিনায়ক হাবিবা আক্তার রূপা। পঞ্চগড় দলটির সব খেলোয়াড়ই উঠে এসেছেন কাজী সাহাউদ্দীন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ থেকে।
২০১৮ সালে শরীরচর্চা শিক্ষক পদে ওই কলেজে যোগ দেন আবদুস সালাম। মূলত তার হাত ধরেই পঞ্চগড়ের মেয়েরা খেলছে জাতীয় পর্যায়ে। দেশসেরা হ্যান্ডবল খেলোয়াড় তৈরির সূতিকাগার হয়ে উঠেছে পঞ্চগড়। চ্যাম্পিয়ন হওয়া আনসার দলের ৯ জন খেলোয়াড় উঠে এসেছেন এই পঞ্চগড় জেলা থেকে। তাদেরও কোচ ছিলেন সালাম।
প্রত্যন্ত অঞ্চলের দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করা পরিবারের সন্তান নারী হ্যান্ডবল খেলোয়াড়রা। এ প্রসঙ্গে সময়ের আলোকে কোচ সালাম বলেন, ‘ফাইনালে ওঠা দুটি দলের খেলোয়াড়রা আমার হাতে গড়া। অল পঞ্চগড় ফাইনাল ম্যাচ। এটা ভালো লাগার যে শিরোপা আমার খেলোয়াড়রাই পেয়েছে। চ্যাম্পিয়ন আনসারের কোচ নাসিরউল্লাহ লাভলু বলেন, ‘২০১৯ সাল থেকে আনসারের কোচ হিসেবে দায়িত্বে আছি। আমি আসার পর থেকে জাতীয় প্রতিযোগিতার প্রতিবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।’
আসরের সেরা খেলোয়াড় ২১ বছর বয়সি জামালপুরের মেয়ে আলপনা আক্তার বলেন, ‘আমার বিশ্বাস ছিল, আমি ভালো খেলব। ফাইনালে সেরা খেলোয়াড় ও টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড় দুটো পুরস্কারই পেয়েছি। এই অনুভূতি বলে বোঝানোর মতো না।’
