06:13:00 am
Wednesday, June 24

রংপুর সিটিতে ঝুঁকিপূর্ণ ৮৬ কেন্দ্র

রংপুর সিটি করপোরেশনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল মঙ্গলবার। রোববার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে নির্বাচনি প্রচার। চলছে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রংপুর সিটি করপোরেশনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল মঙ্গলবার। রোববার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে নির্বাচনি প্রচার। চলছে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ২২৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রচারণার শেষ দিনেও প্রচারণায় মুখর ছিল রংপুর নগরী।

মঙ্গলবার ২২৯টি কেন্দ্রের ১ হাজার ৩৪৯টি কক্ষে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রসিক নির্বাচনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৬ হাজার ৪৬৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১২ হাজার ৩০২ এবং নারী ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ১৬৭ জন।

রোববার দুপুরে রংপুর সিটি নির্বাচন সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন রসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন। এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। রোববার রাত ৮টা থেকে সব ধরনের নির্বাচনি মাইকিং ও মধ্যরাত থেকে প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হবে। এ ছাড়া রাত ১২টার পর থেকে আগামী ২৭ ডিসেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত রসিক এলাকায় মোটরসাইকেল, ইঞ্জিনচালিত ইজিবাইকসহ ব্যক্তিগত প্রাইভেট কার ও নির্বাচনি কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ব্যতীত সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা থাকবে। ইভিএমে ভোটদানের ক্ষেত্রে ভোটারদের জন্য ইতিমধ্যে সব ওয়ার্ডে মকভোটিংসহ জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। 

গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের বিষয়ে তিনি বলেন, রসিকে ২২৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে অস্ত্রসহ পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন থাকবে। অস্ত্র ছাড়াও পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরাও সার্বক্ষণিক কেন্দ্রে অবস্থান করবে। এর বাইরে পুরো রসিক এলাকায় ১১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। আর টহল টিমের পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, ভোটার ছাড়া অন্য কেউ ভোট কক্ষের গোপন বুথে প্রবেশ করতে পারবে না। প্রবেশ করলেই সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়বে এবং তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে প্রচারণার শেষ দিনেও প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেছে প্রার্থীরা। রোববার দুপুরে নগরীর হনুমান তলায় গণসংযোগ করেন নৌকার প্রার্থী হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া। এ সময় তিনি বলেন, নৌকার পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার উঠেছে। আগামী ২৭ ডিসেম্বর বিপুল ভোটে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত। 

ডালিয়া বলেন, আর ভুল করলে চলবে না। ৪৭ বছরেও রংপুরের কোনো উন্নয়ন হয়নি, নৌকার প্রার্থী নির্বাচিত না হলে আগামীতেও পর্যাপ্ত উন্নয়ন হবে না। তাই নৌকায় ভোট দিয়ে একটি আধুনিক ও স্মার্ট সিটি করপোরেশন গড়তে আহ্বান জানান তিনি।

একই দিনে রংপুর মহানগরীর স্টেশন রোড জীবন বীমা মোড় এলাকায় গণসংযোগকালে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই তবে নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপি করতে আসা যেকোনো অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করতে আমরা প্রস্তুত আছি। 

মোস্তফা বলেন, এই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী না থাকায় এবং জামায়াতের এক প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ায় সেই উত্তাপ নেই। এবার লাঙ্গলের পক্ষে জনগণের সৃষ্ট গণজোয়ারে নির্বাচন একতরফা হবে। 

ইভিএম নিয়ে শঙ্কা না থাকলেও এর পেছনের কারিগরদের নিয়ে শঙ্কা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইভিএমে ভোটগ্রহণ নিয়ে গাইবান্ধার ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে শান্ত রংপুর আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হবে।

স্টেশন, শাপলা, গুপ্তপাড়া সিটি বাজার, প্রেসক্লাব এলাকায় গণসংযোগের সময় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার লতিফুর রহমান মিলন বলেন, দুর্নীতিমুক্ত ও নাগরিক সুবিধা সংবলিত সিটি করপোরেশনে রংপুরের মানুষ নিজেদের অধিকার আদায় নিশ্চিত করতে ২৭ ডিসেম্বর হাতি প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করবে। আজকে যারা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, তাদের জন্য রংপুরে কোনো কর্মসংস্থান নেই। নারীদের কোনো কর্মসংস্থান নেই। এসব উপলব্ধি থেকে আমি এই নির্বাচন করছি। এখানে নারীদের দুর্বিষহ অবস্থা। নির্বাচন করতে এসে আরও পরিষ্কার হয়েছি।

প্রসঙ্গত, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-ইনু) শফিয়ার রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুজ্জামান পিয়াল, খেলাফত মজলিশের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল রাজু, জাকের পার্টির খোরশেদ আলম খোকন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের আবু রায়হান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান বনি ও লতিফুর রহমান মিলন। ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর এই সিটিতে সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল।