06:15:37 am
Wednesday, June 24

জব্দ স্বর্ণ নিলামে তুলছে চট্টগ্রাম কাস্টমস

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে চলমান অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে এবার জব্দকৃত স্বর্ণ নিলামে তুলতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। তিনটি প্যাকেট ও ১৬টি কাঠের বাক্সে বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কাস্টডিতে রাখা হয়েছিল এসব স্বর্ণ।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে চলমান অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে এবার জব্দকৃত স্বর্ণ নিলামে তুলতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। তিনটি প্যাকেট ও ১৬টি কাঠের বাক্সে বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কাস্টডিতে রাখা হয়েছিল এসব স্বর্ণ। তবে তাতে কী পরিমাণ স্বর্ণ রয়েছে সেই ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাজিউর রহমান রোববার দুপুরে এ তথ্য জানান। 

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় দেশে অবৈধ পথে আনা স্বর্ণ উদ্ধার ও জব্দ করে কাস্টমস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওইসব স্বর্ণ কাস্টমসে না রেখে নিয়মানুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের কাস্টডিতে রাখা হয়। তবে ওখানে কি পরিমাণ স্বর্ণ রয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ওইসব স্বর্ণ ২০ বছর পার হওয়ার পর দাবিদার না থাকলে নিলামে বিক্রি করে। এখন ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত জব্দ হওয়া স্বর্ণ নিলামে বিক্রির জন্য চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সে অনুযায়ী এসব স্বর্ণ নিলামের প্রক্রিয়া শুরু করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস।

তিনি আরও বলেন, নিয়মানুযায়ী নিলামে তোলার আগে এসব স্বর্ণের দাবিদার রয়েছে কি না তা জানতে শেষবারের মতো গত ২১ ডিসেম্বর বুধবার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিলামযোগ্য এসব স্বর্ণের কোনো দাবিদার থাকলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে লিখিতভাবে দাবি জানাতে হবে। অন্যথায় সরকারি নিয়মানুযায়ী, নিলামে এসব স্বর্ণ বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা করা হবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে চলমান অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে সরকারি রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে জব্দকৃত এসব স্বর্ণ নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাজিউর রহমান।

কাস্টমস সূত্র জানায়, সাগরপথে চট্টগ্রাম বন্দর, আকাশপথে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়াও অন্যান্য পথে অবৈধভাবে চট্টগ্রামে আসা অবৈধ স্বর্ণ বিভিন্ন সময়ে জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। ১৯ লটে ২৪০ জনের কাছ থেকে এসব স্বর্ণ জব্দ করা হয়। ২০০৮ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে জব্দ এসব স্বর্ণ ২০ বছর পার করেছে। এ সময়ের মধ্যে স্বর্ণের কোনো দাবিদার না এলে পরবর্তী সময়ে তা নিলামে তোলার নিয়ম রয়েছে। 

কাস্টমস হাউসের তথ্য মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কাস্টডিয়ানে তিনটি প্যাকেট ও ১৬টি কাঠের বাক্সে এসব স্বর্ণ রক্ষিত রয়েছে। এতে কি পরিমাণ স্বর্ণ রয়েছে তা জানা না গেলেও অনুমান করা হচ্ছে- এসব স্বর্ণ বিক্রি করলে সরকারি কোষাগারে মোটা অঙ্কের রাজস্ব জমা হবে। যা দিয়ে কিছুটা হলেও অর্থনৈতিক মন্দা এড়ানো সম্ভব হবে।

‘স্বর্ণ ফলা’ শাহ আমানত বিমানবন্দর : শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য মতে, চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে স্বর্ণের বৃহত্তম চালান জব্দ হয় ২০১৪ সালের ২৫ মার্চ। ওই চালানে জব্দ ৯০২টি স্বর্ণের বারের ওজন ছিল ১০৫ কেজি ২০০ গ্রাম। যার বাজারমূল্য ৪৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। এই স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক করা হয় বিমানের ১০ যাত্রীকে। একই মাসে পৃথক আরেকটি চালানে আরও ৬ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়।

২০১৪ সালের পুরো বছরজুড়ে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সবচেয়ে বেশি অবৈধ স্বর্ণ জব্দ করা হয়। যার পরিমাণ ২৫৪ কেজি। এ সময় গ্রেফতার করা হয় ২৫ জনকে। তাদের অধিকাংশই বহনকারী। এসব ঘটনায় মামলা হয় ২৪টি।

২০১৫ সালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩২টি চালানে ১০৩ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ২৩০ কেজি স্বর্ণের বার এবং সাড়ে ছয় কেজি স্বর্ণালঙ্কার জব্দ করে শুল্ক কর্তৃপক্ষ। এসব ঘটনায় আটক হয়েছে ৪০ জন। এর বাইরে পরিত্যক্ত অবস্থায় জব্দকৃত ১০০ কোটি টাকা মূল্যের আরও অন্তত ২০০ কেজি স্বর্ণের বার জিডি মূলে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ওই বছর স্বর্ণ জব্দের ঘটনায় মামলা হয় ৩২টি। এর মধ্যে অধিকাংশ মামলার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। কিন্তু একটি মামলার তদন্তেও চিহ্নিত করা যায়নি আড়ালে থাকা মূল হোতাদের।

২০১৯ সালের ৪ মার্চ নগরীর সিআরবি থেকে সিএমপির ডিবি পুলিশ এবং জেলার জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ পৃথক দুটি চালানে ৭০০টি অবৈধ স্বর্ণের বার জব্দ করে। এসব স্বর্ণের বাজারমূল্য ৩১ কোটি টাকা। স্বর্ণ জব্দের সময় গ্রেফতার হওয়া কালু ও রাকিব কারাগারে আটক রয়েছে।

সর্বশেষ ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর সকালে দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট থেকে ১০ কেজি ওজনের ৮৬টি স্বর্ণের বার জব্দ করে শুল্ক ও গোয়েন্দা অধিদফতরের কর্মকর্তারা। এর আগে ৯ অক্টোবর ৯ কেজি ২৮০ গ্রাম ওজনের ৮০টি স্বর্ণের বার জব্দ করা হয়। যার মূল্য ৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

শুল্ক গোয়েন্দা ও কাস্টমস কমিশনারের বক্তব্য : শাহ আমানত বিমানবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই, ওমান, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অবৈধ স্বর্ণের বার আসছে। গত ২০ বছরে অন্তত ২ হাজার কোটি টাকার স্বর্ণের চোরাচালান আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরে যারা ধরা পড়ে তারা স্বর্ণের বাহকমাত্র যারা নিজেরাও চিনে না মূল হোতাকে। মূল হোতারা সিঙ্গাপুর, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মতো মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থান করে। ফলে ভিনদেশে অবস্থানকারী চোরাকারবারিদের চিহ্নিত করা মুশকিল।

শুল্ক গোয়েন্দা চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক একেএম সুলতান মাহমুদ বলেন, আমরা বিভিন্ন সোর্স লাগিয়ে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন স্বর্ণ চোরাচালানিদের গ্রেফতারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। বিমানবন্দরের কিছু কিছু নিম্ন পদের কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত রয়েছে। যারা চিহ্নিত হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।