নারী-পুরুষের মেহেদি ব্যবহারের বিধান
মহান আল্লাহ সৌন্দর্য পছন্দ করেন। মানুষকে তিনি সৃষ্টি করেছেন সুন্দর ও নান্দনিক রূপে
মহান আল্লাহ সৌন্দর্য পছন্দ করেন। মানুষকে তিনি সৃষ্টি করেছেন সুন্দর ও নান্দনিক রূপে। পবিত্র কুরআনের ভাষ্য, ‘আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি শৈল্পিক অবয়বে। সুন্দরতম গঠনে’ (সুরা তিন : ৪)। হাদিসেও এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ (জামিল) সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে ভালোবাসেন’ (মুসলিম : ৯১)। আল্লাহ মানুষকে সৌন্দর্যের প্রতি আকর্ষণ দিয়েই সৃষ্টি করেছেন। তাই মানুষও সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়, সৌন্দর্যচর্চা ভালোবাসে। মানুষের এ সহজাত আকর্ষণের প্রতি ইসলাম বিধি-নিষেধের মাধ্যমে সৌন্দর্যচর্চার একটি মাপকাঠি দিয়েছে, যাতে ভারসাম্যপূর্ণভাবে তার চর্চা হয় ও অশ্লীলতার কারণ না হয়ে যায়। স্বামীর জন্য স্ত্রীর সাজসজ্জা করা ও স্ত্রীর জন্য স্বামীর পরিপাটি থাকা সওয়াবের বিষয়। মাহরামের সীমানার ভেতর সৌন্দর্যচর্চায় কোনো নিষেধ নেই, বরং উৎসাহ রয়েছে।
সৌন্দর্যচর্চা নারীদের বিশেষ আগ্রহের জায়গা। নানা রঙে সাজসজ্জা গ্রহণ তাদের প্রিয় কাজ। ইসলামেও এ বিষয়ে রয়েছে আলাদা তাগিদ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘সিবগাতাল্লাহি ওয়ামান আহসানু মিনাল্লাহি সিবগাহ’, অর্থাৎ রং-বৈচিত্র্যে মহান আল্লাহ থেকে আর কে বেশি সুন্দর? (সুরা বাকারা : ১৩৮)। মানুষও রাঙাতে চায় নিজেকে, বিশেষত নারীরা এদিকে বেশি আগ্রহী। সাজের ধারাবাহিকতায় নারীরা হাতে-পায়ে মেহেদি ব্যবহার করেন। অনেক নারী হাতে মেহেদি ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলেও পায়ে ব্যবহারে অনেকে প্রশ্ন তোলেন। অনেকে বলেন, পায়ে মেহেদি ব্যবহার জায়েজ নেই। কারণ নবীজি দাড়িতে মেহেদি ব্যবহার করেছেন। যে মেহেদি নবীজির দাড়িতে লেগেছে তা কখনো মানুষের পায়ে লাগতে পারে না!
কিন্তু নবীজি (সা.) দাড়িতে তেল ব্যবহার করেছেন। পানিও ব্যবহার করেছেন। তাই বলে পানি ও তেল তো সবাই পায়ে ব্যবহার করছেন! সুতরাং পায়ে মেহেদি ব্যবহারে বাধা নেই। বিখ্যাত ফাতাওয়া গ্রন্থ ‘রদ্দুল মুহতার’-এ বলা হয়েছে, নারীদের জন্য হাতে ও পায়ে মেহেদি লাগানো মুস্তাহাব। হাদিসে এসেছে, ‘একজন নারী হজরত আয়েশা (রা.)-এর কাছে মেহেদি লাগানো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। উত্তরে হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, নারীদের মেহেদি ব্যবহারে মানা নেই। তবে রাসুল (সা.) মেহেদির ঘ্রাণ অপছন্দ করতেন’ (আবু দাউদ : ৪১৬৪)। ফিকহ শাস্ত্রের বিভিন্ন গ্রন্থে নারীদের হাতে-পায়ে মেহেদির ব্যবহারকে উৎসাহিতও করেছে। তবে পুরুষ শুধু চিকিৎসার জন্য মেহেদি ব্যবহার করতে পারবে। না-হয় হাতে-পায়ে কোথাও ব্যবহার করতে পারবে না। (ফাতাওয়া শামি : ৬/৩৬২)
বিয়ের সময়ও কি পুরুষরা মেহেদি ব্যবহার করতে পারবে না? জাওয়াহিরুল ফিকহ গ্রন্থে আছে, পুরুষরা বিয়ের সময়ও মেহেদি লাগাতে পাবে না। কারণ মেহেদি এক ধরনের রং। আর পুরুষদের জন্য রং ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘জেনে রাখো, পুরুষরা এমন সুগন্ধ ব্যবহার করবে, যাতে সুগন্ধি আছে, রং নেই। বিপরীতে নারীরা এমন সুগন্ধি ব্যবহার করবে, যাতে রং আছে, সুগন্ধি কম’ (তিরমিজি : ২৭৮৭)। এ ছাড়া রং থাকার কারণে পুরুষদের জন্য জাফরানের সুগন্ধি ব্যবহার করতেও নিষেধ করেছেন মহানবী (সা.)। তবে চিকিৎসার প্রয়োজনে পুুরুষের জন্যও যেকোনো স্থানে মেহেদি ব্যবহার করা জায়েজ আছে।
