আবারও জামালদের মাঝি ক্যাবরেরা
অস্থায়ী কোচের পথ থেকে সরে এসেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ২০২১ সালে এক বছরের চুক্তিতে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ পান স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা। গত ডিসেম্বরে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়।
অস্থায়ী কোচের পথ থেকে সরে এসেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ২০২১ সালে এক বছরের চুক্তিতে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ পান স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা। গত ডিসেম্বরে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। নতুন কোচ হিসেবে কে আসবেন, এ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই ঘরোয়া ফুটবল মহল্লায় চলছে জোর আলোচনা। অবসান ঘটতে চলেছে সব জল্পনার। ক্যাবেরার ওপরই ভরসা করছে বাফুফে। জামাল ভুঁইয়াদের মাঝি হতে যাচ্ছেন এই স্প্যানিশ কোচ। সময়ের আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাফুফে সভাপতি কাজি সালাউদ্দীন।
যদিও ক্যাবরেরার চুক্তি বৃদ্ধির বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি বাফুফে। তবে বাফুফে সভাপতির ভাষ্য মতে, ক্যাবরেরার চুক্তি আরও এক বছরের জন্য নবায়ন করা হচ্ছে।
রোববার সময়ের আলোকে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন জানান, ‘নতুন বছরে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে ক্যাবরেরাই থাকছেন। তার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। আমাদের সঙ্গে তিনি আরও এক বছর থাকবেন।’
হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার অধীনে এখন পর্যন্ত মোট ৮ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। সেখানে জয় মাত্র একটি, ড্র দুটি এবং বাকি পাঁচটি হার। গত বছর জানুয়ারিতে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে সফল হতে পারেনি এই স্প্যানিশ। মার্চে অনুষ্ঠিত ফিফা প্রীতি ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে হার দিয়ে জাতীয় দলের কোচিং ক্যারিয়ার শুরু তার। এরপর ঘরের মাটিতে সিলেটে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ড্র এবং জুলাইয়ে স্বাগতিক ইন্দোনিশয়ার বিপক্ষে ড্র করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
তার তত্ত্বাবধানে এএফসি কাপের বাছাই পর্বেও সফল হতে পারেনি বাংলাদেশ দল। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে বাহরাইনের বিপক্ষে ২-০ গোলে, দ্বিতীয় ম্যাচে তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে ২-১ এবং তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-১ গোলে হেরেছে ক্যাবরেরা শিষ্যরা। জয় বলতে সেপ্টেম্বরে কম্বোডিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সর্বশেষ ফিফা প্রীতি ম্যাচেও নেপালের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হার দিয়ে জাতীয় দলে প্রথম বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেন ক্যাবরেরা।
এ বছর বাংলাদেশ ফুটবল দলের সামনে অপেক্ষা করে আছে ব্যস্ত সূচি। ফিফা প্রীতি ম্যাচ ছাড়াও আছে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাই পর্ব। এ বছরে ফিফার পাঁচটি উইন্ডো পাচ্ছে বাংলাদেশ দল। প্রথমটি মার্চের ২০ তারিখ থেকে ২৮ তারিখ। দ্বিতীয়টি ১২ জুন থেকে ২০ জুন। তৃতীয়টি সেপ্টেম্বরের ৪ তারিখ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত। চতুর্থটি অক্টোবর মাসের ৯ থেকে ১৭ তারিখ। বছরের শেষ উইন্ডোটি ১৩ থেকে ২১ নভেম্বর।
সবকটি ফিফা উইন্ডো কাজে লাগাতে চাইছে বাফুফে। সর্বশেষ জাতীয় টিমস কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ফিফা উইন্ডো ছাড়াও ১২-১৭ অক্টোবর থেকে এএফসি এশিয়ান কাপে অংশ নেবে বাংলাদেশ। এ ছাড়াও এ বছর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। যদিও সাফের সময় সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি। তবে বাফুফে ধারণা করছে এ বছর সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের বড় আসরটি অনুষ্ঠিত হতে পারে।
এ বছর মার্চ উইন্ডোতে দুটি ফিফা প্রীতি ম্যাচে খেলতে চাইছে বাফুফে। সেজন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে কথাবার্তাও চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি। এ প্রসঙ্গে বাফুফে সভাপতি সময়ের আলোকে বলেন, ‘কয়েকটি দেশের সঙ্গে ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে প্রতিপক্ষ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। যেহেতু নতুন বছর তাই ধীরে ধীরে কথা চালিয়ে যাচ্ছি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা ফিফা উইন্ডোতে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেব।
