03:18:45 am
Monday, June 22
ইকবাল মাহমুদ

যে পরীক্ষার পাশ-ফেল আপনার ইচ্ছার উপরে নির্ভর করে

যে পরীক্ষার পাশ-ফেল আপনার ইচ্ছার উপরে নির্ভর করে

ইকবাল মাহমুদ সোহেল

পরীক্ষা দুই ধরণের, বাধ্যতামূলক পরীক্ষা আর স্বেচ্ছা পরীক্ষা। পরীক্ষা ছাড়া কোন মানুষ নেই। আর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে কোন পুরষ্কার নেই। এবং কঠিন কথা হচ্ছে, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে শাস্তি।


এখন সমস্যা হচ্ছে, আপনি বাধ্যতামূলক পরীক্ষা দেবেন নাকি স্বেচ্ছা পরীক্ষা দেবেন, সেটা বেছে নেয়ার স্বাধীনতা আপনার নেই। এটা আল্লাহ ঠিক করে দেন।


আপনি এক্সিডেন্ট করে পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছেন, চাকরীও করতে পারছেননা, বিয়েও করতে পারছেননা। এটি একটি বাধ্যতামূলক পরীক্ষা। ধৈর্য ধরাই হচ্ছে এ পরীক্ষার একমাত্র উত্তর।


আর আপনি যার ঘাড়ে বোঝা হয়ে পড়ে আছেন, তার জন্য স্বেচ্ছা পরীক্ষা। সে হাসিমুখে আপনার বোঝা বহন করবে নাকি আপনার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।


আপনি গরীব, দিন চলেনা। চিকিৎসার পয়সা নেই। এটা আপনার জন্য বাধ্যতামূলক পরীক্ষা।


আর আপনি পয়সাওয়ালা, কিন্তু আপনার গরীব আত্মীয়ের দিন চলেনা।  এক্ষেত্রে আপনি স্বেচ্ছা পরীক্ষার সম্মুখিন। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর তাদের হেল্প করবেন নাকি মুখ ফিরিয়ে নেবেন।
খেয়াল করার বিষয়, বাধ্যতামূলক পরীক্ষায় পাশ করাটা তুলনামূলক সহজ।
কারণ পরীক্ষা না দিয়ে উপায় নেই।


আর স্বেচ্ছা পরীক্ষায় পাশ করাটা তুলনামূলক কঠিন, চাইলেই পরীক্ষা থেকে বের হয়ে আসা যায়।


মজার বিষয় হচ্ছে, মানুষ সম্পদ চায়, প্রতিপত্তি চায়, সুখ চায়, মানুষ স্বেচ্ছা পরীক্ষা দিতে চায়, যেখানে ফেল করার ভয় বেশি।


আর মানুষ বাধ্যতামূলক পরীক্ষা থেকে বাঁচতে চায়, অভিশাপ মনে করে, অথচ এখানে পাশ করার সুযোগ বেশি।
আমাদের আশেপাশের মানুষ সবাই পরীক্ষা দিচ্ছে।  পৃথিবীর সব মানুষ পরীক্ষা দিচ্ছে।
কেউ বাধ্যতামূলক পরীক্ষা, আর কেউ স্বেচ্ছা পরীক্ষা।


কারোর টাকা আর টাকা।
কারোর শুধু অভাব আর অভাব।
কারোর জামাই দাজ্জাল, নয়তো বউ ডাইনি।
কারোর সংসারে সুখ আর সুখ।
কেউ লোহা খেলে লোহা হজম হয়ে যায়,
কেউ ডাল খেলেও বদহজম হয়।


এটা আল্লাহই ঠিক করে দেন কে বাধ্যতামূলক পরীক্ষার সিটে বসবে আর কে স্বেচ্ছা পরীক্ষার সিটে বসবে।
হযরত আইয়ুব আ. বাধ্যতামূলক পরীক্ষা দিয়েছেন। ফোড়া উঠে সারা শরীর পঁচে গলে দুর্গন্ধ। ৩০ টি বছর, মতান্তরে ১৮ বছর।


তিনি শুধু ধৈর্য ধরেছেন আর দোয়া করেছেন।
পক্ষান্তরে স্বেচ্ছা পরীক্ষা দিয়েছেন হযরত সুলাইমান আ.।
পুরো পৃথিবীর রাজত্ব দেয়া হয়েছিল।
পশু পাখির ভাষা বুঝতেন, কাজে খাটাতেন।
জীন জাতিকে কানে ধরে ঘুরাতেন।
তিনি সে ক্ষমতা ভালো কাজে ব্যবহার করেছেন।
চাইলে ফেরাউন নমরুদের মত অপব্যবহারও করতে পারতেন।


হযরত আছিয়া বাধ্যতামূলক পরীক্ষা দিয়েছেন, ফেরাউনের মত জালিমের স্ত্রী হিসেবে। কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করেছেন আর দোয়া করেছেন, প্রভু! এ কষ্টের বিনিময়ে জান্নাতে তোমার পাশে একটি ঘর বানিয়ে দিয়ো।


আর স্বেচ্ছা পরীক্ষা দিয়েছেন হযরত ইউসুফ আ.। তার সামনে সমাজের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও সুদর্শনা নারী নিজেকে মেলে ধরেছিল।


এ পরীক্ষায় পাশ কিংবা ফেল করাটা ছিল তার ইচ্ছাধীন।


বাধ্যতামূলক পরীক্ষা দিচ্ছে মিয়ানমারের মুসলিমরা। আর স্বেচ্ছা পরীক্ষা দিচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ। ওদেরকে সাহায্য করবে নাকি মুখ ফিরিয়ে নিবে।
স্বেচ্ছা পরীক্ষা দিচ্ছে বাংলাদেশের শাসকেরা। কতটুকু পাশে দাঁড়াবে।


স্বেচ্ছা পরীক্ষা দিচ্ছে আরব ও অনারব মুসলিম শাসকেরা, পৃথিবীর সব ক্ষমতাশালীরা। এ জুলুম থামাবে নাকি চোখ বন্ধ রাখবে।
আল্লাহ তায়ালা শুধু লিখে রাখছেন, হিসাব নেবেন সময় মত।, এবং প্রতিদান বুঝিয়ে দেবেন।

যাচাই করুন নিজের পরীক্ষাটিকে
এখন আমরা কে কোন পরীক্ষার মধ্যে আছি তা সহজেই বের করতে পারি। বাধ্যতামূলক পরীক্ষা আল্লাহ তাকেই দেন, যাকে সহজে পাশ করাতে চান। আর অপরাধীদের আল্লাহ স্বেচ্ছা পরীক্ষা বেশি দেন।


আল্লাহর কাছে দোয়া, আমাদের এমন পরীক্ষা দিওনা, যাতে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হবো।
যদি স্বেচ্ছা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াটা কঠিন হয়, মাবুদ আমাদেরকে বাধ্যতামূলক পরীক্ষাই দাও। তবু পাশ যেন জোটে।


আমাদেরকে এমন ক্ষমতা আর সম্পদ দাও যা ব্যবহার করে পৃথিবীর যুলুম দূর করতে পারি, আর মানবতার কল্যাণ করতে পারি।


আর যদি ক্ষমতার পরীক্ষায় ফেল করার ভয় থাকে।
তবে
শুধু মুসলিম পরিচয়ের কারণে আমাদেরকে করাত দিয়ে চিরে ফেলা হোক, হাত পা বেধে আগুণে পুুড়িয়ে ফেলা হোক। আমাদের আপত্তি নেই; সহজে যদি পাশ জোটে।

লেখক ইকবাল মাহমুদ সোহেল, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও গবেষক।