কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি
পর্যটন, পেশাগত কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক কারণে বিদেশি নাগরিকরা বাংলাদেশে ভ্রমণ করে থাকে। নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত তারা এ দেশে অবস্থান করে এবং প্রয়োজন শেষে নিজ দেশে ফিরে যায়। তথ্য অধিকার আইনের আলোকে পাওয়া ‘সুরক্ষা সেবা বিভাগের’ তথ্য অনুযায়ী গত
পর্যটন, পেশাগত কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক কারণে বিদেশি নাগরিকরা বাংলাদেশে ভ্রমণ করে থাকে। নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত তারা এ দেশে অবস্থান করে এবং প্রয়োজন শেষে নিজ দেশে ফিরে যায়। তথ্য অধিকার আইনের আলোকে পাওয়া ‘সুরক্ষা সেবা বিভাগের’ তথ্য অনুযায়ী গত ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করা বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৭৮ হাজার ২৭৬ জন। এর মধ্যে বৈধভাবে অবস্থান করছে ১৭৮ দেশের ৪৪ হাজার ১৯৬ জন।
বুধবার সময়ের আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৬৯ দেশের ৩৪ হাজার ৮০ জন নাগরিক অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছে, যাদের পাসপোর্ট ও ভিসার মেয়াদ অনেক আগেই উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতের ১৬ হাজার ৬৮৩ জন এবং চীনের ৫ হাজার ২১০ জন নাগরিক অবৈধভাবে অবস্থান করছে। আর পাকিস্তানের রয়েছে ৭৭৫ জন। উন্নত রাষ্ট্র কানাডা, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া ও থাইল্যান্ডের নাগরিকরাও অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ।
এই অবৈধ বিদেশিদের অনেকেই মাদক ব্যবসা, উপহারের নামে প্রতারণা, হেরোইন, ব্যাংকের এটিএম বুথের জালিয়াতি, বিভিন্ন দেশের জাল মুদ্রার কারবার, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা, স্বর্ণ চোরাচালান, অনলাইনে ক্যাসিনো এবং মানব পাচারসহ সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রে জড়িত। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে এবং কর ফাঁকি দিয়ে উপার্জিত অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে নিজের দেশে পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশিদের গ্রেফতার ও নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কিছু সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে সুরক্ষা সেবা বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিদেশিদের আটক রাখার মতো কোনো ডিটেনশন সেন্টার নেই। তাদের কারাগারে রাখতে হলে মামলা দিতে হয়। সেটা সময় ও অর্থসাপেক্ষ হওয়ায় অনেক সময় বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। তা ছাড়া আটক অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের কাছে পাসপোর্ট থাকে না। অনেক সময় তারা ইচ্ছা করে পাসপোর্ট গোপন করে বা ফেলে দেয়। এ অবস্থায় এই বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর আগে নাগরিকত্ব নির্ধারণের প্রয়োজন হয়, যা সময়সাপেক্ষ। আবার অনেক দেশের দূতাবাস ঢাকায় নেই। এমন দেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাই করা আরও বেশি জটিল।
অন্যদিকে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করলে তারা মামলার অজুহাতেও এ দেশে থেকে যায়। বিদেশিদের বিভিন্ন অপরাধকর্মে জড়িত থাকার বিষয়টিও অস্বীকার করা যায় না। কিছুদিন আগে এটিএম কার্ড জালিয়াতির ঘটনায় এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এ ছাড়া মানব পাচার, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা, চোরাচালান, হুন্ডি কারবার ইত্যাদি অপরাধে বিদেশিদের গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা মোটেই নতুন নয়। সন্ত্রাস ও নাশকতামূলক ঘটনার সঙ্গে তাদের কারও কারও সংশ্লিষ্টতা থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিশ্বায়নের যুগে এক দেশ থেকে অন্য দেশে বিদেশি কর্মীদের কাজ করা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। বাংলাদেশে যে ব্যাপক উন্নয়নযজ্ঞ চলছে, সেসব প্রকল্পে অনেক বিদেশি নাগরিক কাজ করে। বাংলাদেশ সরকার বিদেশি বিনিয়োগে উৎসাহী করার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এ উদ্যোগের সঙ্গে বিদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ পরিপূরক। প্রতিটি দেশ তার শ্রমবাজার খোলা রাখে নিজের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উন্নয়নের স্বার্থে। কাজেই বাংলাদেশে বিদেশি কর্মী নিয়োগে অবিলম্বে একটি সমন্বিত ও কার্যকর কৌশলগত নীতিমালা প্রয়োগ করতে হবে। তাদের যথাযথভাবে করের আওতায় আনতে ফলপ্রসূ উপায় অন্বেষণ এখন সময়ের দাবি।
সেইসঙ্গে অনুমোদনহীনভাবে বিদেশি অপরাধীরা কেন ও কীভাবে বছরের পর বছর বাংলাদেশে অবস্থান করছে সেটি অবশ্যই খতিয়ে দেখা দরকার। আমরা আশা করি, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে যত দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
