12:49:40 pm
Friday, August 21
ফাইল ছবি

২২ বছর ইয়েমেন শাসন করেও দাফন কপালে জুটল না সালেহ’র

২২ বছর ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন আলী আব্দুল্লাহ সালেহ। উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেনের মধ্যে বিরোধ কমিয়ে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। সৌদি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অনড় অবস্থান ছিল তার। অথচ নিহত হবার দিন কয়েক আগে তিনি ফের অবস্থান পরিবর্তন করেন। পরিণতিতে হুথি বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হতে হল সালেহ’কে যারা সৌদি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক অনলাইন মিডিয়ার বরাত দিয়ে ইয়াহু নিউজ এক প্রতিবেদনে বলছে, বুধবার সালেহ’র লাশ কার্যত মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী দাফনের সুযোগ পাননি তিনি। ছিল না কোনো শোক অনুষ্ঠানের আয়োজন।

সালেহ’র রাজনৈতিক দল জেনারেল পিপলস কংগ্রেস’এর এক নেতা সোমবার নিশ্চিত করেন ইয়েমেনের সাবেক এই প্রেসিডেন্ট দেশটির রাজধানী থেকে পালিয়ে যাবার সময় তাকে হুতি বিদ্রোহীরা হত্যা করে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়াগুলো বলছে, হুতিদের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয় সালেহ’র ঘনিষ্ট স্বজনদের হাতেই কেবল তার লাশ ফেরত দেওয়া হবে এবং দাফন অনুষ্ঠানে কেবল তারাই উপস্থিত থাকবেন।

কিন্তু হুতি আন্দোলনের মুখপাত্র রুশ বার্তা সংস্থা স্পুটনিককে বলেন, এধরনের কোনো শর্ত দেওয়া হয়নি এবং এ খবরটি মিথ্যা।

স্কাই নিউজ আরাবিয়ার একজন উপস্থাপক জানান, সালেহ’কে কবর দেওয়া হয়েছে তার নিজ জেলা সানহানে। এসময় কোনো দাফনের ব্যবস্থা করা হয়নি।

জেনারেল পিপলস কংগ্রেসের এক নেতা আল-মাশহাদ আল-ইয়েমেনি নিউজকে জানান, তাকে কবর দেওয়ার সময় তার পরিবারের মাত্র ৫ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

আরেক ইয়েমেনি মিডিয়ার একটি সূত্র দাবি করে সানহান নয় ইয়েমেনের রাজধানী সানাতেই সালেহ’কে কবর দেওয়া হয়েছে।

সালেহ ও হুতি আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে একাট্টা হয়েই সৌদি আগ্রাসন তথা দেশটিতে পলাতক সাবেক ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট আব্দ-রাব্বু হাদির সমর্থকদের বিরুদ্ধে লড়ছিলেন। গত নভেম্বরের শেষ দিকে সালেহ’র সঙ্গে হুতিদের দূরত্ব বাড়তে থাকে।

এরপর দুই গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী সানার রাস্তায়। সানা সহ বেশ কয়েকটি শহরে সড়ক অবরোধে সালেহ’র পরিকল্পনায় সৌদি বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করে সহায়তা করা হয়। এসব সংঘর্ষে ২ শতাধিক মানুষ গত কয়েকদিনে নিহত হয়। শেষ রক্ষা হয়নি সালেহ’র।

Share this post

Join the conversation