12:14:50 am
Monday, August 24
প্রতিকি ছবি

প্রশান্তির ঘুম : ইসলামী পদ্ধতি

পৃথিবীর সব মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মাধুর্য চরিত্রের অধিকারী হলেন মুহাম্মদ সাঃ। মানব জাতির প্রত্যেক বিষয়ের উপযোগী শিক্ষা ও সমাধান দিয়েছেন তিনি।

তিনি উত্তম আদর্শের বাতিঘর। জাতি সভ্যতার সেরা শিক্ষক। বিশুদ্ধ অন্তর গড়ার কারিগর। তাঁর শিক্ষা সংস্কৃতিতে নিহিত আছে মানব ভব্যতার পাঠ। তিনি অনুসরণীয়।

তিনি শিক্ষা দিয়েছেন রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে শুরু করে পরিবার পরিচালনা পর্যন্ত। তাঁর শুদ্ধময় জীবনের নানা বিষয়াদী থেকে এখানে ঘুমের পরিশুদ্ধ পদ্ধতির আলোকপাত করা হবে। ইনশাআল্লাহ।

ঘুমানোর পূর্বে অজু :

অজু পবিত্রতার পর্ব। বরকত হাসিলের মাধ্যম। ধর্মীয় ফরজ ও অন্যান্য কাজ প্রারম্ভের প্রথম খুঁটি। ঘুমানোর আগে অজু করা স্বাস্থের সৌন্দর্য ও শরীর পরিস্কারের জন্য নিয়ামক। অজুকালে ঘুমন্ত অবস্থায় মারা গেলে শহিদি মর্যাদার অধিকারী।

এক হাদিসে বিধৃত হয়েছে, 'অজু থাকাবস্থায় কেউ মারা গেলে, তাকে শহিদের মর্যাদা দেয়া হবে। ' অধিকন্তু ঘুম মৃত্যুর মতো বলা যায়। সুতরাং ঘুমানোর পূর্বে অজু করা জরুরি। ঘুমানোর আগে অজু করার শিক্ষা দিয়েছেন মুহাম্মদ সাঃ।

বারা ইবনে আ’যিব রা: থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল সাঃ আমাকে বলেছেন, তুমি যখন শোবার বিছানায় যাবার ইচ্ছা করবে তখন নামাজের অজুর ন্যায় অজু করবে। তারপর ডান কাতে শোবে। বোখারি ৬৩১১, মুসলিম ৬৮৮২।

ডান কাতে শোয়া :

ডান কাতে শোয়া ইসলামী বিধানে সুন্নাত। মানবতার নবী মুহাম্মদ সাঃ ঘুমানোর মুহূর্তে ডান পাশে ফিরে শোতেন। ডান কাতে শোয়ার দ্বারা হৃৎপিণ্ড ভালো থাকে। পৃথিবীর সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা আজ এ কথা স্বীকার করেছেন। হার্ট দুর্বল এমন রোগীদের ডান পাশে ফিরে শোতে পরামর্শ দিচ্ছেন।

অথচ ডান দিকে ফিরে শোয়ার নির্দেশ রাসুল সাঃ পনের ‘শ’ বছর পূর্বেই দিয়েছেন। যা পূর্বের হাদিসের শেষাংশে বলেছেন। আর আসন্ন হাদিসে তিনি নিজে আমল করে দেখিয়ে গেছেন।

বারা ইবনে আ’যিব থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, 'রাসুল সাঃ যখন বিছানায় শয়ন করতেন তখন ডান পাশে ফিরে শোতেন। ' বোখারি ৬৩১৫।

ঘুমানোর পূর্বপরে দোআ :

ইসলাম মানবজাতিকে প্রত্যেক কাজ কর্মে আল্লাহর স্মরণ করতে বলেছে। আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনার পাঠ দিয়েছে। নবীজী সাঃ বলেছেন ঘুমানোর পূর্বে দোআ করে আল্লাহর হাওলায় নিজেকে সমার্পণ করে ঘুমের কোলে ঢলে যেতে। এবং ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে তার করুণার প্রশংসা করতে।

হুযায়ফা রা: থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, 'রাসুল সাঃ রাতে যখন শয্যায় যেতেন গালের নাবালে হাত রাখতেন। তারপর বলতেন আলহুম্মা বিইছমিকা আমুতু ওয়া আহইআ। ' ঘুম থেকে যখন উঠতেন বলতেন 'আলহামদু লিল্লাহিল্লাযি আহ ইয়ানা বা’দামা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশূর। ' বোখারি ৬৩১৪।

ঘুমের পূর্বে সূরা পড়া :

ঘুম হলো মৃত্যুর অপর নাম। ঘুমুলে মানুষের পুরোপুরি হুশ থাকে না। তার জ্ঞান শক্তি লোপ পায়। ঘুমে যাবার পূর্বে শোয়ে শোয়ে সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়া প্রয়োজন। পড়লে সওয়াব ও বরকতের ঝুলি বৃদ্ধি হবে। ঘুমে যাবার পূর্বে মুহাম্মদ সাঃ সূরা পড়তেন।

আয়েশা রা: থেকে বর্ণিত যে, 'নবী কারীম সাঃ প্রতি রাতে শয্যা গ্রহণের সময় তালুদ্বয় একত্রিত করে সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে ফুঁ দিতেন। অতপর হাত দ্বারা শরীরের যতদূর পর্যন্ত সম্ভব হতো, ততদূর পর্যন্ত বুলিয়ে দিতেন। আপন মাথা চেহারা এবং শরীরের সামনের দিক থেকে আরম্ভ করতেন। এইভাবে তিনি তিনবার করতেন। ' বোখারি ৫০১৭।

ঘুম থেকে জাগ্রত হবার পর মেসওয়াক :

মানুষ ঘুমানোর পর মুখ দিয়ে নির্গত শ্বাস বন্ধ হয়ে শুধু নাক দিয়ে শ্বাস প্রশ্বাস জারি থাকে। মুখে জল খাবার কিছু পরে না। যার ফলে মুখের ভেতর লালা জমে হালকা আবরণ তৈরি করে ভেতর চামড়াতে। দাঁতে জমে থাকে লালার দাগ ও ক্ষীণ চামড়ার মতো ময়লা। যা মুখে দুর্গন্ধ ও অস্থিরতা তৈরি করে। তা মুখ পরিস্কারের জন্য ঘুম থেকে উঠে মেসওয়াক করা চায়।

মানবতার সেনা নায়ক মুহাম্মদ সাঃ মেসওয়াক করতেন। হুযায়ফা রা: থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, 'নিশ্চয় রাসুল সাঃ রাত্রিতে ঘুম হতে জাগরণের পর মেসওয়াক দ্বারা নিজের পবিত্র মুখ ও হাত পরিস্কার করতেন। ' আবু দাউদ ৫৫।

Share this post

Join the conversation