12:29:28 pm
Wednesday, June 24

পিউর নতুন বছরের উপহার

নতুন বছর শুরু আজ। তাই পিউ সকাল সকাল উঠে ফ্রেশ হয়ে রান্নাঘরে গেল।

নতুন বছর শুরু আজ। তাই পিউ সকাল সকাল উঠে ফ্রেশ হয়ে রান্নাঘরে গেল। কারণ চা তৈরি করতে হবে। বাবা মা ঘুমোচ্ছে। একটু পর উঠে যাবে। আজ মায়েরও অনেক অনুষ্ঠান। পিউর মা লেখালেখি ও আবৃত্তি নিয়ে কাজ করে। অন্যদিন মা সবার আগে উঠে সবকিছু করে।

আজ পিউ মনে মনে বলল, আমি আজ মাকে চমকে দেব।পিউর চা তৈরি করা হয়ে গেল। একটু পর পিউর বাবা মা ঘুম থেকে উঠলেন। তারাও ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে বসলেন। পিউর ভাই লেখাপড়ার সুবাদে ঢাকা থাকে। সেও আজ তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করতে বসল। অনেক দিন পর পিউ, পিউর ভাই, ঠাকুমা, পিউর বাবা-মা সবাই একসঙ্গে বসে নাস্তা করলেন।

নাস্তা শেষে পিউর মা বলল, পিউ আমি রান্না করি, তুমি কিছুক্ষণ পড়ে নাও। তা ছাড়া আজ বিকালে বেড়াতে যাবে। তখন তো তোমার পড়া হবে না। পিউ বলল, মা আজ তোমারও তো অনেক অনুষ্ঠান। কাজেই আমি সাহায্য করে দিই।পিউ সাহায্য করার এক ফাঁকে বলল, মা আজ দুপুরে অনন্যা ও আরলিন খাবে। তার পর আমরা সবাই মিলে বিকালে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত দেখতে যাব।

মা বলল, ঠিক আছে। তবে সমুদ্রের পানিতে নেমো না। পিউ মাথা নেড়ে বলল, ঠিক আছে। মাকে সাহায্য করা শেষ। এবার পিউর মা খেয়াল করল পিউ নিজের পোশাক গুছিয়ে রাখার পাশাপাশি তার জন্যও শাড়ি গয়না বের করে রাখল। তারপর টেবিল মুছল, রুম গুছিয়ে রাখল। পিউর মা মনে মনে বলল, যাক আজ মেয়ের সামান্য একটু পড়ার ক্ষতি হলেও কিছু হবে না।

পারিবারিক দায়িত্ববোধ কিন্তু সে ঠিকই শিখছে।পিউ নিয়ম করে ঠাকুমার দেখাশোনা করে। ওষুধ এগিয়ে দেয়, গল্প করে, ঠিকমতো ফলমূল খেতে দেয় ও ধর্মীয় পুথি পড়ে শোনায়। বাবা-মা পিউকে শিখিয়েছে, মানুষ বৃদ্ধ হলে শিশু হয়ে যায়, তখন তারা চান পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে, কথা বলতে। যারা বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সেবা না করে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেন তারা পারিবারিক শিক্ষা ঠিকমতো পায়নি। একদিন ওরাও একাকী জীবন যাপন করবেন, শুধু দুদিন আগে আর পরে।পিউ সব শুনে নিজ থেকেই এখন সব দায়িত্ব পালন করে। তার ভাই অসাধারণ গান করে, চট্টগ্রামে তারও একটি অনুষ্ঠান আছে।

সে বলল, আমি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি গান লিখেছি আজ ওটাই গাইব। সব শুনে মা বলল, বেশ তো। আজ আমি সাহিত্যবিষয়ক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা পাঠ করব। আর সেটা অবশ্যই আমার লেখা। পিউ বলল, আমিও ভাবছি আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি কিনে আমার বন্ধুদের উপহার দেব। আর আজ নতুন বছরে এর চেয়ে মূল্যবান উপহার আর কিছু হবে না। একসময় দুপুরের খাবার সময় হয়ে গেল। পিউর বন্ধুরাও চলে আসল। পিউ সবাইকে নিয়ে খেতে বসল। সঙ্গে বাবা-মা, ভাই ও ঠাকুমা।

পিউর বাবা বলল, পিউ তোমার দায়িত্ব বোধের জন্য আজ নতুন বছরে তোমাকে একটি খুশির খবর দেব। আমরা সবাই মিলে ঢাকা ঘুরতে যাব। অবশ্যই ট্রেনে করে। সেই সঙ্গে তোমাদের সবাইকে পদ্মা সেতু দেখাতে নিয়ে যাব। মেট্রোরেলেও সবাই চড়বে। তারপর পুরান ঢাকার সব ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে দেখাব। সেই সঙ্গে তোমাদের নিয়ে যাব বঙ্গবন্ধুর সেই ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িটিতে। সবাই তো মহাখুশি। এমনকি পিউর বন্ধুরাও। পিউর বাবা তার ভাইকে ডেকে বলল, দীপ্ত তুমি আজই অনলাইনে আমাদের সবার জন্য ট্রেনের টিকেট কেটে ফেলো।সবাই তখন একসঙ্গে বলে উঠল, হিপ হিপ হুররে।