চট্টগ্রামে ইসহাক কনটেইনার ডিপোতে নেই ফায়ার সেফটি প্ল্যান
চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহরে অবস্থিত বেসরকারি ইসহাক কনটেইনার ডিপোতে ফায়ার সেফটি প্ল্যান ও পর্যাপ্ত ফায়ার এক্সটিংগুইসার নেই। বরং কনটেইনার ডিপোর পাশে আছে একটি লাইসেন্সবিহীন পেট্রোল পাম্পও। এই অগ্নিঝুঁকির দায়ে ইসহাক কনটেইনার ডিপোকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে লাইসেন্স ছাড়া ইসহাক ডিপোতে পরিচালনা করে আসা একটি ফিলিং স্টেশনকে অনুমোদন নিতে ৭ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যথাযথ অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় আদিলা অ্যাপারেলস লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানাকেও দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শনিবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অভিযানে ইসহাক কনটেইনার ডিপো ও আদিলা অ্যাপারেলস লিমিটেডে এসব অনিয়মের কথা জানান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত। তিনি অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে সহযোগিতা করে ফায়ার সার্ভিস।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত বলেন, ইসহাক কনটেইনার ডিপোতে অভিযানের সময় ফায়ার সেফটি প্ল্যান ও পর্যাপ্ত ফায়ার এক্সটিংগুইসার পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ডিপোতে একটি লাইসেন্সবিহীন পেট্রোল পাম্প পাওয়া গেছে। সেখানে কয়েক হাজার কনটেইনার থাকলেও ফায়ার এক্সটিংগুইসার ছিল মাত্র ৩৫০টি। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৭ দিনের ভেতর পেট্রোল পাম্পের আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
একই দিন নগরীর বাংলাবাজারে দোভাষ ঘাটের পাশে আদিলা অ্যাপারেলস লিমিটেডেও অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানেও কোনো ফায়ার সেফটি প্ল্যান ও পর্যাপ্ত ফায়ার এক্সটিংগুইসার পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির ট্যাংকি ও বিকল্প বের হওয়ার পথ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দুটি প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন, ইসহাক কনটেইনার ডিপো ২২ বছর ধরে ব্যবসা করলেও ফায়ার সেফটি প্ল্যান অনুমোদন বা বাস্তবায়ন কোনোটিই করেনি। সেখানে কয়েক হাজার কনটেইনার থাকলেও ফায়ার এক্সটিংগুইসার ছিল মাত্র ৩৫০টি। বিএম কনটেইনার ডিপোর বিস্ফোরণের পরও ফায়ার সেফটি প্ল্যান ও পর্যাপ্ত ফায়ার এক্সটিংগুইসার না থাকায় অভিযান সংশ্লিষ্টরা অবাক হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৪ জুন রাতে সীতাকুণ্ডের কদমরসুল এলাকায় অবস্থিত বিএম ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে সেখানে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এরপর টানা ৮৬ ঘণ্টা সেখানে আগুন জ্বলতে থাকে।
এই দুর্ঘটনায় আশপাশে থাকা ফায়ার সার্ভিসকর্মী ও শ্রমিকসহ ৫১ জন নিহত এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হন। একই দুর্ঘটনায় ১৫৬টি আমদানি-রফতানি কনটেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
