03:11:25 am
Tuesday, August 25

দিনাজপুরে শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

শৈত্যপ্রবাহ আর কনকনে হিমেল বাতাসে দেশের উত্তরের জেলা দিনাজপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা তিনদিন ১০ ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এ জেলায়।

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে আরও দুইটি শৈত্যপ্রবাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শৈত্যপ্রবাহ দুইটি তীব্রতায় রূপ নিতে পারে। সোমবার দিনাজপুরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এই মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৭ শতাংশ।

তীব্র শীতে হাড়কাঁপানো ঠান্ডার কারণে দিনাজপুরের রাস্তাঘাট, বাজারে লোকজন ও যানবাহন কম দেখা গেছে। বাড়ি থেকে প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। বিকেলে পুরাতন গরম কাপড়ের বাজারে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের আবহাওয়া সহকারী মো. আসাদুজ্জামান আসাদ সময়ের আলোকে জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি দিনাজপুরের তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২ জানুয়ারি ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি, ৩ জানুয়ারি ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি, ৪ জানুয়ারি ১২ ডিগ্রি, ৫ জানুয়ারি ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি, ৬ জানুয়ারি ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি, ৭ জানুয়ারি ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি, ৮ জানুয়ারি ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রী আর আজ ৯ জানুয়ারি ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে, দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও দিনাজপুর সদর হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এই দুইটি হাসপাতাল ছাড়াও জেলার ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ জেলার অন্যান্য হাসপাতাল ও ক্লিনিকেও শীতজনিত আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ফলে এসব হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদেরকে।

অপরদিকে, ছিন্নমূল, অসহায়-গরীব শীতার্ত মানুষের মাঝে বিভিন্ন ব্যাংকসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। 

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকী জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ছিন্নমূল, অসহায়-গরীব শীতার্ত মানুষের মাঝে ৮০ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরও ৭০ হাজার পিচ কম্বল চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে।

Share this post

Join the conversation