04:07:26 pm
Wednesday, June 24

চলতি মাসেই আইএমএফের ঋণ অনুমোদন 

চলতি মাসের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ অনুমোদন হচ্ছে। ২৯ জানুয়ারি আইএমএফের পরিচালনা পর্ষদে বাংলাদেশের ঋণপ্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে শর্ত সাপেক্ষে অনুমোদন হবে বলে নির্ভরযোগ্যসূত্রে জানা গেছে।

চলতি মাসের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ অনুমোদন হচ্ছে। ২৯ জানুয়ারি আইএমএফের পরিচালনা পর্ষদে বাংলাদেশের ঋণপ্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে শর্ত সাপেক্ষে অনুমোদন হবে বলে নির্ভরযোগ্যসূত্রে জানা গেছে। অনুমোদন হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হবে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রথম কিস্তিতে ৪৫ কোটি ৪৪ লাখ ৩১ হাজার ডলার ঋণ পাবে। যেখানে সরকারের পক্ষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সমর্থন- স্বাক্ষর থাকবে। 

অন্যদিকে আইএমএফের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা অ্যান্তইয়েত মনসিও সায়েহ চার দিনের সফরে ১৪ জানুয়ারি ঢাকায় আসছেন। তিনি মূলত শর্তের সার্বিক দিক নিয়ে আলোচনা করবেন। তিনি পর্যায়ক্রমে অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থসচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। 

আইএমএফের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কাছে শর্ত পূরণে আশ্বস্ত করতে সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কিছু নমুনা উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ভর্তুকি কমানো। গত রোববার গণশুনানির মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সুপারিশ করা হয়। পরদিন অর্থাৎ গত সোমবার অবশ্য বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এক অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন, প্রতিমাসে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা হবে। এই বার্তা ইতিমধ্যে আইএমএফকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। দাম সমন্বয়ের মাধ্যমে ভর্তুকি পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনা হবে। আইএমএফের পরামর্শে ৯ শতাংশ সুদের হার তুলে নেওয়ার বিষয়ে খুব শিগগির সিদ্ধান্ত হতে পারে। ১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্ধবার্ষিকী মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে। আসন্ন মুদ্রানীতিতে এর প্রতিফলন থাকতে পারে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল এক সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। 

ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আইএমএফের বিশেষ শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে খেলাপি ঋণ। এই শর্তের আওতায় ইতিমধ্যে বাংলাদেশ খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে।  

আদায়যোগ্য অর্থ সময়মতো আদায় করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ব্যাকিং খাতে যেন শৃঙ্খলা ফিরে আসে সে লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার তাগিদ রয়েছে আইএমএফের। 

আইএমএফের আরও যেসব শর্ত রয়েছে তার মধ্যে-  সরকারের ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনা এবং অর্থনৈতিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আওতায় আয়কর আইন সংশোধন করার বিষয়ে আইএমএফের শর্ত রয়েছে। সেই শর্ত পূরণে এনবিআর কাজ করছে। 

বোর্ডের সাবেক আয়কর সদস্য মো. আলমগীর হোসেন জানান, আইন সংশোধনের কাজ অনেক আগেই শুরু হয়েছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য জানান, আগামী সংসদে এই সংশোধনী আইন উপস্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে আইএমএফকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। 

সামাজিক সুরক্ষা খাতে সরকারের ব্যয় নিয়ে আইএমএফের প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে সঞ্চয়পত্রের হিসাব-বাজেট আলাদা করার জন্য সুপারিশ রয়েছে। সেই সুপারিশ অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ বিভাগ কাজ করছে। সামাজিক সুরক্ষা খাতে একটি ডাটাবেইজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। 

জানা গেছে, প্রথম কিস্তির ঋণ পাওয়ার পর আইএমএফের আরও কিছু উপ-শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব শর্ত পূরণের মাধ্যমে সরকার ঋণের পরবর্তী কিস্তি পাবে। 

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে গেছে জ্বালানি, খাদ্যপণ্য ও নিত্যপণ্যের দাম। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ঠিক রাখা এবং খাদ্য আমদানিতে চাহিদা অনুযায়ী ডলারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে আইএমএফের কাছে জুলাই মাসে ঋণ চেয়ে চিঠি দেয়। ঋণের অঙ্কের পরিমাণ চিঠিতে লেখা না হলেও, শেষ পর্যন্ত জরুরিভিত্তিতে লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বাজেট সহায়তার জন্য ৪৫০ কোটি ডলার চাওয়া হয়। 

গত ২৬ অক্টোবর ১৫ দিনের সফরে আইএমএফের প্রতিনিধি দল রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে ঢাকায় আসেন। প্রতিনিধি দল বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা শেষে গত ৯ নভেম্বর ঢাকা ত্যাগ করেন। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আইএমএফ ঋণ দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব জানিয়ে যায়। 

১৪ জানুয়ারি আইএমএফের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা চার দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন। ওই কর্মকর্তার গ্রিন সিগন্যালে ২৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে আইএমএফের পরিচালনা পর্ষদে ঋণ অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।