04:24:01 am
Sunday, June 21

‘ঘাটতি’ থেকেই এডিআরএস বিতর্ক

বিপিএল কি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে দিনকে দিন ‘বিষফোড়া’ হয়ে উঠছে? জন্মলগ্ন থেকেই প্রতিনিয়ত বিতর্ক ছড়াচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টটি, কোনোভাবেই তা রুখতে পারছে না দেশের

বিপিএল কি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে দিনকে দিন ‘বিষফোড়া’ হয়ে উঠছে? জন্মলগ্ন থেকেই প্রতিনিয়ত বিতর্ক ছড়াচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টটি, কোনোভাবেই তা রুখতে পারছে না দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাটি। বিভিন্ন কাণ্ডে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে বিসিবিকে। 

সংস্থার এক কর্তা তো একরাশ আক্ষেপ নিয়ে বলেই ফেললেন-বিপিএল বন্ধ করে দিলেই বুঝি ভালো হয়! কিন্তু মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে মাথা কেটে ফেলা কি যুক্তিযুক্ত সমাধান? দেশের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য বিপিএলের মতো টুর্নামেন্টের গুরুত্ব কতটা, তা সবারই জানা। 

বিসিবিকে তাই মাথা কেটে ফেলার ভাবনা দূরে সরিয়ে রেখে মাথা ব্যথা সহ্য করার পথটাই বেছে নিতে বাধ্য হতে হচ্ছে। পাশাপাশি চলছে ব্যথা প্রশমনের উপায় অনুসন্ধান। এই যেমন এবারের আসরে ডিআরএস না থাকা নিয়ে যখন চারদিক থেকে সমালোচনার বিষমাখা তীর ছুটে আসছিল, বিসিবি তখন এডিআরএস প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। লোকবলের ঘাটতিতে বল ট্র্যাকিং করার ফিচার হক আই ব্যবহার করা যাচ্ছে না, একই কারণে স্নিকো বা আল্টা এজ ফিচারও বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে আছে।

এই দুটো ফিচারের ঘাটতিতে ডিআরএস বনে গেছে এডিআরএস, যার পোশাকি নাম অল্টারনেট ডিআরএস। এটির সাহায্যেই এলবিডব্লিউ এবং ক্লোজ আউটের সিদ্ধান্তে খেলোয়াড়দের সংশয় দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু ওই চেষ্টাই আবার জন্ম দিচ্ছে নতুন নতুন বিতর্কের। খেলোয়াড়রা তাই এডিআরএসের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। এর থেকেও বড় কথা- আম্পায়ারদের সিদ্ধান্তে পূর্ণ আস্থা তাদের নেই। অনেক খেলোয়াড় যথাযথ সম্মানটুকুও দেখাচ্ছেন না। আবার নিয়ম জানার আগ্রহে ঘাটতিও সৃষ্টি করছে বিভ্রান্তি। নিয়ম না জেনেই উল্টো-পাল্টা মন্তব্য করে বসছেন খেলোয়াড় এবং কোচরা।

শনিবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এবং ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে ম্যাচে এডিআরএসের সাহায্যে জাকের আলীকে দেওয়া এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্তে তো রীতিমতো তুলকালাম হয়েছে চট্টগ্রামে। বরিশালের অফস্পিনার ইফতেখার আহমেদের বলটি লেগস্টাম্পের যৎসামান্য ভেতরে পিচ করে জাকেরের প্যাডে আঘাত হানে। তাতে আউটের সিদ্ধান্ত দেন মাঠের আম্পায়ার। জাকের রিভিউ নেন। কয়েকবার রিপ্লে দেখে টিভি আম্পায়ার তানভির আহমেদ মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন। তাতে রীতিমতো বিস্ময় ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। ম্যাচ শেষে কুমিল্লার কোচ তো রীতিমতো ক্ষোভ উগড়ে দেন।

ধারাভাষ্যকারেরাও বলছিলেন, টিভি আম্পায়ারের এহেন সিদ্ধান্তে ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না তারা। কিন্তু তারা সবাই ভুলে গিয়েছিলেন- এটা ডিআরএস নয়, এডিআরএস। ডিআরএসের নিয়মে এলবিডব্লিউ পেতে হলে বলের অন্তত ৫১ ভাগ লেগস্টাম্পের ভেতরে পিচ করতে হবে। এই নিয়মটাই সবাই জানে। কিন্তু এডিআরএস নিয়ে বিসিবি টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই দলগুলোকে জানিয়ে দিয়েছেÑবলের সামান্যতম অংশও যদি লেগস্টাম্পের ভেতর থাকে, তাহলে সেটি এলবিডব্লিউর জন্য যথেষ্ট বলে বিবেচ্য হবে। জাকেরের আউট নিয়ে যখন আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে, তখন নতুন করে এই ব্যাখ্যাই বিবৃতির মাধ্যমে দিয়েছে বিসিবি।

বিপিএলের টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান রকিবুল হাসানও জানিয়েছেন, ডিআরএসের নিয়মে কিছু পরিবর্তন এনে এডিআরএস সমন্বয় করা হয়েছে। প্লেইং কন্ডিশনের ৬.৪.৩.৩ ধারায় এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্তে এই সমন্বয়ের কথা দলগুলোকে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে। সময়ের আলোকে রোববার এমনটাই জানালেন সাবেক আম্পায়ার এবং বর্তমানে আম্পায়ারদের প্রশিক্ষক এনামুল হক মনি, ‘বিপিএলের সব দলকে শর্ট নোট দেওয়া হয়েছে। সেটি যদি তারা না পড়েন, তাহলে কি আর করা? তাদের জানাশোনায় ঘাটতি আছে বলেই এমন বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।’

যে এডিআরএস এত এত বিভ্রান্তি তৈরি করছে, সেটি ব্যবহার না করলেও তো হয়? এমন প্রশ্নে মনি বললেন, ‘আম্পায়াররা একেবারেই ভুল করছেন না, সেটি বলব না। কিন্তু এডিআরএস ব্যবহার করে যতটুকু সম্ভব সঠিক সিদ্ধান্তই দেওয়া হচ্ছে। এই প্রযুক্তি না থাকলে তো আরও সমস্যা তৈরি হতো, অবস্থা দৃষ্টে আমার তেমনই মনে হচ্ছে। এডিআরএসের তাই প্রয়োজনীয়তা আছে। খেলোয়াড়দের উচিত আম্পায়ারদের যথাযথ সম্মান দেখানো। কেউ কেউ তো নিয়মকানুনের তোয়াক্কাই করেন না।’ অর্থাৎ ঘাটতি আছে ক্রিকেটারদের খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতায়ও।