আওয়ামী লীগ উন্নয়নের কথা বলে জনগণকে বোকা বানাচ্ছে: মির্জা ফখরুল
আওয়ামী লীগ উন্নয়নের কথা বলে দেশের জনগণকে বোকা বানাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, 'আজকে আওয়ামী লীগ উন্নয়নের কথা বলে আন্দোলন দমাতে চেষ্টা করছে, সেটা তারা দমাতে পারবে না। মানুষ জেগে উঠেছে, তারা তাদের অধিকার আদায় করবে।'
শনিবার সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ইতিহাসের পর্যালোচনা করে আওয়ামী লীগকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'আইয়ুব খান পাকিস্তান আমলে ১০ বছর শাসন করেছিল। অনেক বড় বড় ভবন করেছিল। উন্নয়ন উন্নয়ন করেছিল। তারপর দেখে উত্তাল আন্দোলনের মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে আইয়ুব খান নেই। এরশাদ সাহেব অনেক উন্নয়ন করার পরও সেই আমলের ছাত্ররা তাকে আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে।'
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ' আওয়ামী লীগ সরকার খারাপ এ কথাটা বললে তারা মামলা দিয়ে দেয়। তাদের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা যায় না। যদি কথা বলায় না যায়, তাহলে আমরা দেশকে স্বাধীন করেছিলাম কেন। আমরা গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছি। পাকিস্তান আমাদের সঙ্গে জুলুম করত। অথচ এখন তাদের মতোই শাসনব্যবস্থা কায়েম করছে বর্তমান সরকার। তবে তা আর করতে দেওয়া হবে না।'
বিএনপি নির্বাচন চায় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, 'তার আগে শেখ হাসিনার এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। কারণ এই সরকার থাকলে নির্বাচন কখনোই সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে না। কারণ তারা কাউকে ভোট দিতে দেয় না৷ তাদের কথা হলো, আমার ভোট আমি দেবো, তোমার ভোটও আমি দেবো। আগামীতে আর এরকম নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। শান্তিপূর্ণভাবে এর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে এক দিনের টোপর মাথার বরের মত উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দেশের লোকেরা আসলেই অনেক সহজ সরল। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরাও তাই। তারা বুঝতেও পারে না যে টোপর মাথায় পড়া এক দিনের বরের যে কদর থাকে, এক দিনের ভোটকে কেন্দ্র করে এ সরকারের কাছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরাও ঠিক তাই।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় আজ যে মারামারি, হানাহানি, মন্দির ভাঙচুরের মত সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলো ঘটছে, এগুলো সব বর্তমান সরকারই ঘটাচ্ছে। আর এতে করে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করা আওয়ামী লীগের কাছেই সুরক্ষীত নয়। এ সরকার বারবার সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলো অস্ত্র বানিয়ে বিএনপির ওপর চাপিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, যারাই ভিন্নমত পোষণ করবে তাদেরকেই এ সরকার সন্ত্রাস বানিয়ে দেয়। তারা এ দেশকে আওয়ামী লীগের দেশ বানাতে চায়। আগামী দিনে জনগণকে সাথে নিয়ে শান্তিপূর্ন আন্দেলনের মাধ্যমে এই জবরদখলকারী সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকা এই সরকারকে আর কোনভাবেই ভোট চুরির সুযোগ দেওয়া হবে না।
২৭ দফা নতুন রূপরেখা অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে কমিশন গঠনের মাধ্যমে তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিচারবিভাগীয় কমিমন গঠন করে জনগণের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি পরপর দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবে না এ লক্ষ্যে সংশোধনী করা হবে।

Join the conversation