09:26:22 am
Friday, August 21

মস্কো নিষেধ্বাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজে পণ্য পাঠানোয় আশাহত ঢাকা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সরঞ্জাম রাশিয়া, মার্কিন নিষেধ্বাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজে পাঠাবে এমনটা আশা করেনি বাংলাদেশ। রাশিয়ার ৬৯টি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে, ঢাকার পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে এসব জাহাজের পরিবর্তে মস্কো নিষেধ্বাজ্ঞাহীন অন্য জাহাজে সরঞ্জাম পাঠাবে। এদিকে, রোববার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সরঞ্জাম নিয়ে রাশিয়ান দুইটি জাহাজ দেশের মোংলা বন্দরে পৌছলে জাহাজে থাকা সরঞ্জাম খালাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের কাছে তাজ্জব লেগেছে যে রাশিয়া জেনেশুনে নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন জাহাজের নাম পরিবর্তন করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পণ্য পাঠিয়েছে। আমরা এটি আশা করিনি। আমরা আশা করি, রাশিয়া এখন নিষেধাজ্ঞা নেই এমন জাহাজে পণ্যগুলো পাঠাবে। রাশিয়ার ৬৯টি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে। এর বাইরে তাদের কয়েক হাজার জাহাজ আছে। সেগুলোতে তারা পণ্য পাঠাবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে, উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রাশিয়াকে বলেছি, তাদের যেসব জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে, সেগুলো ছাড়া অন্য যেকোনো জাহাজে পাঠাতে পারে। নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন জাহাজ আমরা গ্রহণ করতে চাই না।’

এই বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের কাছে রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকররা জানতে চান যে রাশিয়ার জাহাজ ফেরত দেওয়াকে কেন্দ্র করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পণ্য পাঠানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে যাচ্ছে কিনা? জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একটু দেরি তো হবেই। এটুকু বলতে পারি, সেই জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া হয়নি।’

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় থাকা ‘উরসা মেজর’ নামের একটি জাহাজে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সরঞ্জাম পাঠিয়েছিল রাশিয়া। রাশিয়ার পতাকাবাহী ওই জাহাজটি গত ২৪ ডিসেম্বর মোংলা বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল। তার আগেই গত ২০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এক বার্তায় জানানো হয়, উরসা মেজর নামের রাশিয়ান জাহাজটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। উরসা মেজর জাহাজের প্রকৃত নাম হচ্ছে স্পার্টা ৩। এরপর বিষয়টি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়ার পর জাহাজটিকে বাংলাদেশ বন্দরে ভিড়তে দেওয়া হয়নি। পরে জাহাজটি পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া বন্দরে গিয়ে সরঞ্জাম খালাসের চেষ্টা করলেও ভারতের অনুমতি মেলেনি।

এদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন পণ্য নিয়ে রাশিয়ান দুইটি জাহাজ গতকাল রোববার মোংলা বন্দরে নোঙর করেছে। এরপরই ওই জাহাজ দুইটিতে আসা সরঞ্জাম খালাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

Share this post

Join the conversation