ছোট আমলও অবজ্ঞা করা অনুচিত
নেক ও বদ আমল দুনিয়ায় ছোট মনে হলেও পরকালে তা অনেক বড় হবে। তাই কোনো পাপকে তুচ্ছ মনে করা উচিত নয়। অনুরূপ কোনো নেক কাজকেও তাচ্ছিল্য করা উচিত নয়। দুনিয়ার ভালোমন্দ সব কাজের ফল আমাদেরকে ভোগ করতে হবে আখেরাতে। কাজ ভালো হোক আর মন্দ, ভালো কাজ করা আর মন্দ থেকে বাঁচা বা মন্দ থেকে আল্লাহর ক্ষমা লাভ করা-তা করে যেতে হবে এ দুনিয়াতেই। আখেরাতে নতুন করে আমল করার কোনো সুযোগ থাকবে না।
দুনিয়ার অর্থবিত্ত, প্রভাব-প্রতিপত্তিও কোনো কাজে আসবে না। তবে সমাজে চলতে-ফিরতে এমন কিছু বাক্য আমরা শুনে থাকি, যা নেক কাজকে তাচ্ছিল্য করা বোঝায়। যেমন-বলা হয় মিষ্টি খাওয়া সুন্নত, সবাই পালন করে; কিন্তু অত্যাচারীর সামনে সত্য বলা, আল্লাহর পথে সংগ্রাম করা যেন দায়িত্ব নয়। মিষ্টি খাওয়া আসলেই সুন্নাত কি না, সেটা আলোচনার দাবি রাখে। তবে এ কথা বলে একটি নেক আমলকে তুচ্ছ করা হয়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘কোনো নেক কাজকেই তুচ্ছজ্ঞান করো না। এমনকি অপারগতায় তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করাকেও।’ (মুসলিম : ৬৪৫১)
জীবন চলার পথে পথে, ঘরে-বাইরে ছোট ছোট পুণ্যময় এমন অনেক কিছু ছড়িয়ে আছে, যা ক্ষুদ্র হলেও মানুষকে সফলতার পথে পৌঁছে দিতে পারে। আবার এমন অনেক ছোট পাপ রয়েছে, যেগুলো ক্ষুদ্র হলেও আগুনের ফুলকির মতো জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছাই করে দিতে পারে। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে সে তা দেখতে পাবে এবং অণু পরিমাণ মন্দ করলে সে তা-ও দেখবে’ (সুরা যিলযাল : ৭-৮)। আল্লাহ আরও বলেন, ‘সেদিন মানুষের আমলনামা উপস্থিত করা হবে। তাতে যা লিপিবদ্ধ আছে, তার কারণে আপনি অপরাধীদের ভীতসন্ত্রস্ত দেখবেন। তারা বলবে, হায় আফসোস, এ কেমন আমলনামা! এটা তো ছোট-বড় কোনো কিছুই বাদ দেয়নি, সবই এর মধ্যে আছে। তারা তাদের কৃতকর্ম সামনে উপস্থিত পাবে। আপনার রব কারও ওপর জুলুম করেন না’ (সুরা কাহফ : ৪৯)। সুতরাং হাশরের মাঠে হিসাব যখন ছোট-বড় সবকিছুরই হবে, তাই ছোট বিষয়কেও তাচ্ছিল্য করা কোনো সুস্থ বিবেকের কাজ হতে পারে না।
পার্থিব জীবনে অনেক ক্ষুদ্র বিষয় মানুষের জীবনকে মুগ্ধ ও আনন্দিত করে তোলে, যা বড় বিষয় দিয়ে হয় না। রাসুল (সা.) বলেন, ‘ভালো কোনো কাজকেই তুচ্ছ মনে করবে না। সে কাজটি কাউকে এক টুকরো রশি, একটি জুতার ফিতা, তোমার পানির পাত্র থেকে পানিপ্রত্যাশী কারও পাত্রে সামান্য পানি ঢেলে দিয়ে হোক। অথবা মানুষের চলার পথ থেকে কষ্টদায়ক কোনো কিছু সরিয়ে দিয়ে, হাসিমুখে তোমার ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, তোমার ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সালাম দিয়ে কিংবা পৃথিবীতে কোথাও কারও একাকিত্ব দূর করে দিয়ে হোক, কোনো কিছুকেই তুমি তুচ্ছ মনে করবে না। তোমার কোনো অন্যায়ের কথা জেনে কেউ যদি তোমাকে গালি দেয় আর তুমি জানো, তার মধ্যে এ দোষটি রয়েছে, তখন তুমি তাকে গালি দেবে না। এতে তার প্রতিদান তুমি পেয়ে যাবে, আর তার গোনাহ তার কাঁধেই থাকবে’ (মুসনাদে আহমাদ : ১৫৯৫৫)। আলোচ্য হাদিস থেকেও আমরা নেক আমলকে তুচ্ছজ্ঞান না করার শিক্ষা পাই।
- Tags:
- ছোট আমল

Join the conversation