12:34:27 am
Wednesday, June 24
ঢাকা-কক্সবাজার রেলওয়ের কাজ শেষ হবে জুন মাসে।

জুনেই ঢাকা থেকে সরাসরি রেল যাবে কক্সবাজার

২০২৩ সালের জুনে ঢাকা থেকে সরাসরি রেল যাবে কক্সবাজার। এরই মধ্যে এ রেললাইনের সব কাজ সম্পন্ন হবে। ইতিমধ্যে মোট কাজের ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছেন এ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মফিজুর রহমান।

২০২৩ সালের জুনে ঢাকা থেকে সরাসরি রেল যাবে কক্সবাজার। এরই মধ্যে এ রেললাইনের সব কাজ সম্পন্ন হবে। ইতিমধ্যে মোট কাজের ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছেন এ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মফিজুর রহমান। 

তিনি বলেন, ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠায় দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি অগ্রাধিকার প্রকল্প। এ প্রকল্পের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে ৬০ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। যা প্রকল্পের মোট কাজের ৮০ শতাংশ। বাকি কাজ ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে শেষ হবে। এরপর ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগে যুক্ত হবে কক্সবাজার। তখন সারা দেশ থেকে ট্রেন সরাসরি কক্সবাজারে যাবে। নতুন এ প্রকল্পের মাধ্যমে ট্যুরিস্ট কোচের আদলে কেনা হচ্ছে উন্নতমানের ৫৪টি কোচ। সুপ্রশস্ত এসব কোচের জানালা দিয়ে যাত্রীরা অনায়াসে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দেখতে কক্সবাজার পৌঁছে যাবেন। 

তিনি বলেন, দোহাজারী-কক্সবাজার ১০০ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণের ব্যয় শুরুতে ১ হাজার ৮৫২ কোটি ধরা হলেও পরে কাজের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত এর ব্যয় বৃদ্ধি পায় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকায়। এ প্রকল্প ছিল একটি স্বপ্ন। যার বাস্তবায়ন এখন দোরগোড়ায়। এ প্রকল্পে রেল যোগাযোগ চালু হলে দেশের পর্যটন খাতে ব্যাপক উন্নয়নসহ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মোট ১০০ কিলোমিটার সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মিত হচ্ছে। পুরো প্রকল্পে ৩৯টি মেজর ব্রিজ এবং ২৪২টি কালভার্ট নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। হাতি চলাচলের জন্য আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণ করা হয়েছে। রেললাইনটা নির্মিত হলে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হবে। 

পর্যটন শহর কক্সবাজারকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ আরামদায়ক, সাশ্রয়ী পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থার নিশ্চিত করা হবে। সহজে ও কম খরচে মাছ, লবণ, রাবারের কাঁচামাল এবং বনজ ও কৃষিজ দ্রব্যাদি পরিবহন করা সম্ভব হবে।

প্রকল্প ব্যয় বাড়ার কারণ সম্পর্কে প্রকল্প কর্মকর্তা মফিজুর রহমান বলেন, কাজের পরিমাণ বাড়ার কারণে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে। তবে টেন্ডার করার পরে এর ব্যয় বাড়েনি। সময় বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ৩০ জুন করা হলেও ২০২৩ সালের ৩০ জুনের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ সহায়তায় দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার মিটারগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প ২০১০ সালের ৬ জুলাই একনেকে অনুমোদন পায়। সেই সময়ে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। পরে সেই প্রকল্পকে ডুয়েল গ্যাজ (মিটারগেজ ও ব্রডগেজ) ও ডাবল লাইনে কাজ করার জন্য পুনরায় ব্যয় সংশোধন করে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। পরে এক দফা বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ করা হয় ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

এরই ধারাবাহিকতায় দোহাজারী থেকে কক্সবাজারের পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটারকে ২ ভাগে ভাগ করে ২টি কোম্পানির মাধ্যমে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিআরইসি) ও বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি এবং চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) ও বাংলাদেশের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড পৃথক দুই ভাগে কাজটি করছে। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। 

জানা যায়, প্রথম পর্যায়ে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে ১০০ কিলোমিটার রেলপথ। এর মধ্যে ৩৯টি বড় সেতু, ২২৩টি ছোট সেতু ও কালভার্ট, বিভিন্ন শ্রেণির ৯৬টি লেভেল ক্রসিং। থাকবে হাতি চলাচলের জন্য একটি ৫০ মিটার দীর্ঘ ওভারপাস ও তিনটি আন্ডারপাস। হচ্ছে ৯টি স্টেশন। 

২০১৮ সালের জুলাইয়ে কাজ শুরু করে বর্তমানে ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কক্সবাজারের রামু, ঈদগাঁ, পেকুয়া ও চকরিয়া অংশে রেলট্র্যাক বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। ব্রিজের কাজ প্রায় শেষ। এগুলোর ফিনিশিং কাজ চলছে। তবে কিছু কালভার্ট নির্মাণের কাজ বাকি আছে। এটি সরকারের ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প আমরা চেষ্টা করছি  নিখুঁতভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের মূল্য বাড়ার কারণে সব ধরনের নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ছে।

সেই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদকালও বাড়ানো হয়েছে তবে ব্যয় বাড়ানো হয়নি। যেটা বেশি দেখা যাচ্ছে তার জন্য কাজ বেড়েছে। প্রথমে এটি ঝিল মিটারগেজের সিঙ্গেল লাইন পরে এটাকে ডুয়েলগেজ করে ডাবল লাইন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে আর এজন্য লেগেছে অতিরিক্ত জমি। শুধু জমি অধিগ্রহণেই লেগে গেছে ৫ হাজার কোটি টাকা। 

ঝিনুকের আদলে আইকনিক রেলস্টেশন

এই প্রকল্পের অধীনে কক্সবাজারে ঝিনুকের আদলে নির্মাণ হচ্ছে দেশের একমাত্র আইকনিক রেলস্টেশন। ২৯ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা স্টেশন ভবনটি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩৭ বর্গফুটের। ছয় তালা ভবনের সামনে খোলা মাঠে তৈরি হবে ঝিনুকাকৃতির দৃষ্টিনন্দন একটি ফোয়ারা।

যাত্রীরা ঝিনুক ফোয়ারা দিয়ে স্টেশনে প্রবেশ করবেন এবং চলন্ত সিঁড়ির মাধ্যমে পদচারী সেতু হয়ে উঠবেন ট্রেনে। আবার ট্রেন থেকে নেমে ভিন্ন পথে বেরিয়ে যাত্রীরা পা বাড়াবেন সৈকতশহরে। এ জন্য তৈরি হচ্ছে গমন ও বহির্গমনের পৃথক দুটি সড়ক। থাকছে গাড়ি পার্কিংয়ের তিনটি বড় জায়গা। 

ভবনের উত্তরে ৬৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১২ মিটার প্রস্থের তিনটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য ৬৫০ মিটার ও প্রস্থ ১২ মিটার। এ ছাড়া এই স্টেশনটিতে পর্যটকেরা লাগেজ স্টেশনে রেখে সারা দিন সমুদ্রসৈকত বা দর্শনীয় স্থান ঘুরে রাতের ট্রেনে আবার ফিরতে পারবেন নিজ গন্তব্যে। এ ছাড়া ভবনটিতে থাকবে টিকেট কাউন্টার, অভ্যর্থনাকক্ষ, তথ্যকেন্দ্র, মসজিদ, শিশুদের বিনোদনের জায়গা, পেসেঞ্জার লাউঞ্জ, শপিং মল, রেস্তোরাঁ, তারকামানের হোটেল, রেস্তোরাঁ, কনফারেন্স হল ও কর্মকর্তাদের কার্যালয়।

থাকছে আরও ২৫টি স্টেশন

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে ২৫টি স্টেশন। সেগুলো হলো- চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন, চট্টগ্রাম জংশন রেলওয়ে স্টেশন, ঝাউতলা রেলওয়ে স্টেশন, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক রেলওয়ে স্টেশন, ষোলশহর জংশন রেলওয়ে স্টেশন, জান আলীর হাট রেলওয়ে স্টেশন, গোমদণ্ডী রেলওয়ে স্টেশন, বেঙ্গুরা রেলওয়ে স্টেশন, ধলঘাট রেলওয়ে স্টেশন, খানমোহনা রেলওয়ে স্টেশন, পটিয়া রেলওয়ে স্টেশন, চক্রশালা রেলওয়ে স্টেশন, খরনা রেলওয়ে স্টেশন, কাঞ্চননগর রেলওয়ে স্টেশন, খানহাট রেলওয়ে স্টেশন, হাশিমপুর রেলওয়ে স্টেশন, দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন, সাতকানিয়া রেলওয়ে স্টেশন, লোহাগাড়া রেলওয়ে স্টেশন, হারবাং রেলওয়ে স্টেশন, চকরিয়া রেলওয়ে স্টেশন, ডুলাহাজরা রেলওয়ে স্টেশন, ইসলামাবাদ রেলওয়ে স্টেশন, রামু রেলওয়ে স্টেশন ও কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশন।