04:31:11 pm
Sunday, June 21

সেনাশাসিত মিয়ানমারে আফিম চাষ বাড়ছে

সেনাশাসিত মিয়ানমারে গত বছর আফিম চাষ ৩৩ শতাংশ বেড়েছে; এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ এ তথ্য জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতে বিপর্যস্ত দেশটিতে ছয় বছর নিম্নমুখী ধারায় থাকার পর পরিস্থিতি উল্টে গেছে।

সেনাশাসিত মিয়ানমারে গত বছর আফিম চাষ ৩৩ শতাংশ বেড়েছে; এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ এ তথ্য জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতে বিপর্যস্ত দেশটিতে ছয় বছর নিম্নমুখী ধারায় থাকার পর পরিস্থিতি উল্টে গেছে। এ প্রসঙ্গে বার্তা সংস্থা রয়টার্স মিয়ানমারের সামরিক জান্তার এক মুখপাত্রের মন্তব্য চেয়ে যোগাযোগ করলেও তিনি সাড়া দেননি। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয়ের (ইউএনওডিসি) এক কর্মকর্তা বলেছেন, দুই বছর আগে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশটিতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতি চলছে, তার সঙ্গে এই আফিম চাষ বৃদ্ধির ‘সরাসরি সম্পর্ক’ আছে।
ইউএনওডিসির আঞ্চলিক প্রতিনিধি জেরেমি ডগলাস বলেছেন, ‘২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা নেওয়ার পর অর্থনৈতিক, নিরাপত্তাজনিত এবং শাসনতান্ত্রিক সংকট এক বিন্দুতে মিলেছে; তাই দূর-দূরান্ত, সংঘর্ষপ্রবণ এলাকার কৃষকদের আফিম চাষে ফেরা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।’অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমারের অর্থনীতি ক্রমেই নিচের দিকে নামছে; ডলারের বিপরীতে কিয়াত (মিয়ানমারের মুদ্রা) আরও দুর্বল হচ্ছে, খাদ্য ও জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। ইউএনওডিসির মিয়ামারের কান্ট্রি ম্যানেজার বেনেডিক্ট হফম্যান সতর্ক করেছেন, ‘বিকল্প এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া আফিম চাষ এবং উৎপাদন ক্রমে বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে।’ 
২০২২ সালে আফিম চাষ করা জমির পরিমাণ এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে ৪০ হাজার ১০০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে, গড় আনুমানিক ফলনও হেক্টরপ্রতি ৪১ শতাংশ বেড়ে ২০ কেজিতে পৌঁছেছে; ইউএনওডিসি ২০০২ সাল থেকে তথ্য নেওয়া শুরুর পর এখন পর্যন্ত এটাই সর্বোচ্চ, বলছে জাতিসংঘের প্রতিবেদন। এর মধ্যে চীন, থাইল্যান্ড ও লাওসের সঙ্গে সীমান্ত থাকা মিয়ানমারের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য শানে আফিম চাষ সবচেয়ে বেশি ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০২১ সালের প্রতিবেদনে চাষকৃত এলাকা বের করতে মূলত উপগ্রহের তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল।
মিয়ানমারে বিপুল পরিমাণ আফিম উৎপাদিত হয়, কোনো কোনো বছর এর মূল্য ২০০ কোটি ডলারেও পৌঁছায়; এরপর এই মাদক প্রতিবেশী দেশগুলোর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে পৌঁছায়, বলছে জাতিসংঘের প্রতিবেদন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার সহিংসতায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে।
সর্বশেষ অভ্যুত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত সরকারিভাবেই সামরিক বাহিনীর হাতে ২৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা এর ১০ গুণ বেশি বলে মনে করা হয়।