05:03:16 pm
Tuesday, August 25

দাম বৃদ্ধির ঘোষণায় চিনির বাজার আরও চড়া

দাম বৃদ্ধির সরকারি ঘোষণা আসার পর বাজারে আরও বাড়ল চিনির দাম। এতদিন কেজি ১১০ টাকায় বিক্রি করা চিনি এবার দাম বেড়ে ১২৫ টাকা হয়ে গেছে। ভোক্তাদের নাভিশ্বাস উঠলেও বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে চিনির দাম স্বাভাবিক করতে বরাবরের মতো ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে সরকার।  
গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরএ) চিনির দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। নতুন মূল্য অনুযায়ী প্যাকেটজাত প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হবে ১১২ টাকায় এবং খোলা চিনি বিক্রি হবে ১০৭ টাকায়। নতুন এ দাম আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। বর্তমান মূল্য অনুযায়ী প্রতি কেজি প্যাকেটজাত চিনি ১০৭ টাকা এবং খোলা চিনি ১০২ টাকা। তবে বাজারের কোথাও এই দামে এখন চিনি মেলে না। প্যাকেটজাত চিনি এখনই বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়, আর খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। ব্যবসায়ীদের দাবি মিল থেকে চিনি সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া  প্যাকেটের গায়ে লেখা মূল্যে চিনি দেওয়া হচ্ছে না। ফলে তারা সরকার নির্ধারিত মূল্যে চিনি বিক্রি করতে পারছে না। তবে মিলারদের দাবি তারা সরবরাহ ঠিক রেখেছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় মজুদ করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে।
কুড়িল বিশ্ব রোড এলাকার দিয়ামনি জেনারেল স্টোরের দোকানি সিদ্দিক বলেন, কারওয়ান বাজারে রসিদ ছাড়া প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চিনি কিনে আনতে হয় ৫ হাজার ৫৫০ টাকায়। দোকানে সরবরাহ করা কোম্পানির বিক্রয়কর্মীদের কাছ থেকেও প্যাকেটের গায়ের মূল্যের চেয়ে ২ টাকা অর্থাৎ প্রতি কেজি ১০৯ টাকা ছাড়া কেনা যায় না। এখন তো সরকার আরেক দফা দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। আমরা আগের দামেও চিনি পাব না। দাম আরও বাড়াবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা।কারওয়ান বাজারে চিনি কিনতে আসা আসাদুর রহমান নামে এক ক্রেতা বলেন, চিনি কেনা কমিয়ে দিয়েছি। তারপরও চা ও সেমাই-পায়েস বানানোর জন্য কিনতে হয়। একেবারে না কিনে থাকতে পারি না। সামনে রমজান। এ সময় চাহিদার শীর্ষে থাকে চিনি। সরকার এখনই যদি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না পারে তাহলে আমাদের জন্য রমজানে চিনি পাওয়া আরও কষ্ট হয়ে যাবে। তখন চিনির শরবতও খাওয়া যাবে না।
কারওয়ান বাজারের চিনির ডিলার ইব্রাহিম স্টোরের স্বত্বাধিকারী ইব্রাহিম বলেন, মিল মালিকরা চিনির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখছে দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে তারা চাহিদা মতো চিনি দিচ্ছে না। অগ্রিম টাকা দিয়েও মিল থেকে চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। দৈনিক চাহিদা যেখানে ১০০ বস্তা  সেখানে ৪০ থেকে ৫০ বস্তা চিনি দেয়।২০২১ সালের জুলাই-ডিসেম্বর ৬ মাসের তুলনায় ২০২২ সালের শেষ ৬ মাসে চিনির আমদানি ২ লাখ ৮ হাজার টন কমেছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। সাধারণ সময়ে প্রতি মাসে দেড় লাখ টন চিনির চাহিদা থাকলেও রমজানে এই চাহিদা দ্বিগুণ হয়ে ৩ লাখ টন বা তারও বেশিতে পৌঁছায়।
অন্যদিকে শুধু চিনি নয়, মসলাসহ আদা-রসুন ও শুকনো মরিচের দামেও অস্থিরতা চলছে। বাজারে প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। রসুনের দামও বেড়ে হয়েছে ১৫০-১৮০ টাকা। বাজারে তুলনামূলক কিছুটা কম দামে দেশি জাতের আদা-রসুন থাকলেও সেগুলোর চাহিদা কম।
আগে যে শুকনো মরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হতো ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় তা এখন ৫০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। আমদানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন সংকটে পণ্যটির রেকর্ড পরিমাণ দাম বেড়েছে। বর্তমানে শুকনো মরিচ কেজিপ্রতি সর্বনিম্ন ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায় ওঠানামা করছে। আসন্ন রমজানের আগে সরবরাহ না বাড়লে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।
বাজারভেদে সরু মিনিকেট চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭৫ টাকায়। মাঝারি মানের বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬২ টাকায়। ভালো মানের নাজিরশাইল চালের কেজি ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা। আর মোটা চাল ৫৪-৫৫ টাকা কেজি।
অন্যদিকে শীত মৌসুম শেষ না হলেও বাজারে দাম চড়া মৌসুমি সবজির। এর কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা সরবরাহ ঘাটতির কথা বললেও বাস্তবে তেমনটি দেখা যায়নি। বরং বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহের চিত্রই দেখা গেছে। এরই মধ্যে কেজিতে দাম বেড়ে গেছে ১০ টাকা পর্যন্ত।
ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা বেড়ে প্রতি কেজি ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ডিমের দামে দেখা দিয়েছে বিশৃঙ্খলা। কোনো কোনো এলাকায় প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।
স্বস্তি নেই শীতের সবজিতেও। প্রায় প্রতিটি পণ্য বিক্রি হচ্ছে আগের থেকে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশিতে। এর কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা সরবরাহ ঘাটতির কথা বললেও বাস্তবে তেমনটি দেখা যায়নি। এক কেজি বেগুন কিনতে লাগছে ৮০ টাকা। লম্বা বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। মুলার কেজিও এখনও ৩৫ টাকা। ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। করলার কেজি ৬০ থেকে ৭০, শসা ৫০ থেকে ৬০, টমেটো ৩০ থেকে ৫০ ও চিচিঙা ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Share this post

Join the conversation