নাম ও জন্মসনদ পরিবর্তন করে স্কুল ভর্তিতে প্রতারণা
সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে এ বছর লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। লটারিতে রাজধানীর ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে চান্স পেয়েছে আব্দুল্লাহ খন্দকার রমিম।
সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে এ বছর লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। লটারিতে রাজধানীর ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে চান্স পেয়েছে আব্দুল্লাহ খন্দকার রমিম। তবে লটারিতে এক-দুবার নয়, আব্দুল্লাহ খন্দকার রমিম তিনবার একই স্কুলে চান্স পেয়েছে। যেখানে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করেও ভাগ্যের দুয়ার খোলেনি অনেক শিশুর। শুধু রাজধানীর ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলেই নয়, দেশজুড়ে বেশকিছু সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে একজনই চান্স পেয়েছে তিন থেকে চারবার। এ নিয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। একটি জন্মনিবন্ধনে একবারের বেশি যেখানে আবেদনের সুযোগ নেই, সেখানে একজনই তিনবার চান্স পেল কীভাবে এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সময়ের আলোর হাতে আসা বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তির ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নামের অল্পবিস্তর পরিবর্তন কিংবা জন্মনিবন্ধনের শেষ ডিজিটে কারসাজি করে একাধিক আবেদন করেছেন এসব শিশুর অভিভাবকরা। আর এই ধরনের প্রতারণার সুযোগ করে দিয়েছেন স্কুলের অসাধু কিছু শিক্ষক ও কর্মচারীরা।
কলেজিয়েট স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে চান্স পাওয়া আব্দুল্লাহ খন্দকার রমিম ৯৫, ১১২ ও ১১৩ মেধাক্রমে চান্স পেয়েছে। তার নাম ও পিতা-মাতার নাম পরিবর্তন করা হয়নি। কিন্তু তার জন্মসনদ ও ইউজার আইডি ভিন্ন। জন্মসনদ পরিবর্তন করা হয়েছে। ৯৫ মেধাক্রমে তার জন্মসনদ নং ২০১৬০৯২১৬০৩০৩১১৫৬, ১১২ মেধাক্রমে ২০১৬০৯২১৬০৩০৩১১৫৩ ও ১১৩ মেধাক্রমে ২০১৬০৯২১৬০৩০৩১১৫১। একই টেকনিকে মোহাম্মদ আবরার তাহমিদ প্রতারণা করে ভর্তিতে আবেদন করে দুবার চান্স পেয়েছে। ৮৬ মেধাক্রমে মোহাম্মদ আবরার তাহমিদের জন্মসনদ নং ২০১৬২৬৯২০৪২০৯৪৬৭২ এবং ১১৬ মেধাক্রমে তার জন্মসনদ নং ২০১৬২৬৯২০৪২০৯৪৬৭৩। জন্মসনদের একটি ডিজিট পরিবর্তন করেই এই প্রতারণা করেছে তাহমিদের অভিভাবকরা। কলেজিয়েটসহ সরকারি-বেসরকারি ১০টি স্কুলে আবেদন করেও চান্স না পাওয়া এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, কোমলমতি শিশুদের ভর্তিতে এ ধরনের প্রতারণা ভবিষ্যতে তারা কী শিখবে? যেখানে আমার ছেলে কাক্সিক্ষত কোনো স্কুলেই চান্স পায়নি। আর একজনই তিনবার চান্স পেয়েছে। তিনি এ ধরনের প্রতারণার কঠোর শাস্তি দাবি করেন।
জন্মনিবন্ধনে নাম কিংবা জন্মসনদের নম্বর ভিন্ন করে একাধিক আবেদনকারীদের ভর্তি করা হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির ডিজিটাল লটারির ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। আগের দিন সোমবার সারা দেশের সরকারি ৫৪০ স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির লটারি অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত পাঁচটি আবেদন পাওয়া গেছে যারা জন্মনিবন্ধনের নাম এদিক-ওদিক করে, জন্মসনদের নম্বর ভিন্ন করে একাধিক আবেদন করেছেন। এগুলো যারা করেছেন সবাই ধরা পড়বেন। কারণ ভর্তির সময় জন্মনিবন্ধন যাচাই করেই ভর্তি করানো হবে। এসব শিক্ষার্থী কোনোভাবেই ভর্তি হতে পারবে না। তিনি বলেন, আগে প্রতিবছর হতো ভর্তি যুদ্ধ। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যুদ্ধে নামিয়ে দেওয়া হতো। একটা শিশু ভর্তি হতে এসেই হতাশ হয়ে যেত। আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়ে যেত। এখন সেটা আর হচ্ছে না। শিক্ষার্থীর চেয়ে আসন সংখ্যা বেশি আছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিক কিংবা উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কেউ বাদ যাবে না। কারণ শিক্ষার্থীর থেকে আসন বেশি। এখন মেধার সমতা হবে। কোচিং বাণিজ্য বন্ধ হয়েছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হয়েছে। এই লটারি শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনছে। যারা এখনও লটারিতে আসেনি, তাদেরও লটারিতে আনার চেষ্টা চলছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খালেদা আক্তার, টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম হাবিবুর রহমানসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও টেলিটকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চলতি বছর দেশের বেসরকারি বিদ্যালয়ে ৯ লাখ ২৫ হাজার ৭৮০টি শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে মাত্র ২ লাখ ৬০ হাজার ৯৩৩টি। ফলে বেসরকারি আসন খালি থাকবে ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪৭টি।
আর সরকারিতে ১ লাখ ৭ হাজার ৮৯০টি শূন্য আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৬ লাখ ২৬ হাজার ৫৯টি। সেই হিসেবে প্রতি আসনে ভর্তির জন্য ৫ দশমিক ৮ জন শিক্ষার্থী আবেদন করে।
