07:17:47 pm
Tuesday, August 25

বাইরে আন্দোলন, ভেতরে বিএনপির প্রার্থী বাছাই

আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে বিরোধী দল বিএনপি। ইতিমধ্যে তারা প্রায় ২০০ আসনে প্রার্থী তালিকার খসড়া তৈরি করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের আমলনামা যাচ্ছে লন্ডনে থাকা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে। তাদের নিজ নিজ এলাকায় অবস্থানসহ কেন্দ্র থেকে দেওয়া হচ্ছে নানা নির্দেশনা। দলটির সিনিয়র নেতারা বলছেন, বিএনপি বরাবরই নির্বাচনমুখী দল। যেকোনো মুহূর্তে নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত আছে। তবে তা হতে হবে দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনি মাঠে নেমেছে। তারা জোরেশোরে প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা নৌকায় ভোট চাচ্ছেন। বিদ্রোহী ও বহিষ্কৃতদের একে একে ক্ষমা করে নির্বাচনি মাঠে নামাচ্ছেন। সরকারি দল যেখানে ২০২৩ সালকে নির্বাচনের প্রস্তুতির বছর বলছে সেখানে বিএনপি তাকে চূড়ান্ত আন্দোলনের বছর ধরে এগোচ্ছে। তবে দৃশ্যমান কার্যক্রম না চালালেও বিএনপি নির্বাচনের প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, নির্বাচন নিয়ে তাদের কোনো সমস্যা নেই। প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি হবে না। ইতিমধ্যে ২০০ আসনের প্রার্থী মোটামুটি ঠিক করা আছে। কিছু আসন তো পূর্বনির্ধারিত থাকে। সব মিলে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না বিএনপি।

সরকারি দল এখন থেকেই জনসভা করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেখানে বিএনপি কীভাবে প্রস্তুতি নেবে? এমন প্রশ্ন ছিল একাধিক সিনিয়র নেতার কাছে। জবাবে একজন ভাইস চেয়ারম্যান সময়ের আলোকে বলেন, ‘আমরা যত সাংগঠনিক কার্যক্রম করছি সবই তো নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ। এই যে দেখলেন না ১০টি বিভাগীয় সমাবেশ করেছি। রাজ্যের লোক হয়েছে। তারা উজ্জীবিত। নির্বাচনের জন্য তারা প্রস্তুত। তবে এই সরকারের অধীনে নয়। কেননা এই সরকারে অধীনে হাজারো প্রস্তুতি নিয়েও ভোটে গেলে ২০১৮ সালের মতো পরিস্থিতি হবে।’ 

তার মতে, নির্বাচন যখনই হোক না কেন; বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ে তেমন বেগ পেতে হবে না। কারণ গেল একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় ৩০০ আসনে হাজারখানেক প্রার্থীর নামের তালিকা আছে। এখান থেকেই অদল-বদল হবে। সবকিছু দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তারেক রহমান।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। রাজনৈতিক দল হিসেবে ভোটের প্রস্তুতি তো থাকতেই হবে। আন্দোলনকে অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেব আমরা। তবে এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না।

সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সব সংসদীয় আসনের নেতাদের মাঠে নামার কথা বলেছেন। কারাগারে থাকা নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। পরে আমলনামা হিসেবে এগুলোর ফলোআপ রিপোর্টও সংগ্রহ করতে বলেছেন বিএনপি মহাসচিব। তৃণমূল নেতারা এটিকে নির্বাচনি প্রস্তুতি হিসেবে ধরছেন। 

এদিকে গেল বছরের আগস্টে ৩০০ সাবেক এমপিকে এলাকায় পাঠায় বিএনপির হাইকমান্ড। তারা অনেক জায়গায় বিভেদ দূর করে তৃণমূল কর্মীদের মাঠে নামতে সক্ষম হয়।

এ প্রসঙ্গে গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক জানান, তাদের সঙ্গে লন্ডন থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সরাসরি অনলাইনে কথা বলেন। একই সঙ্গে আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। এবার ফাঁকিবাজির রাজনীতির দিন শেষ। যারা মাঠের আন্দোলনে সক্রিয় থাকবেন তারাই নির্বাচনে পুরস্কার পাবেন। সবার আমলনামা আছে হাইকমান্ডের কাছে। তবে এখন মাথায় আন্দোলন ছাড়া কিছু ভাবার সময় নেই তাদের।

নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। নির্বাচন করেই কয়েকবার ক্ষমতায় যায়। নির্বাচনের বিকল্প কিছু চিন্তা করে না। তবে তা হতে হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। এ জন্যই আমরা ১০ দফা দাবি আদায়ে মাঠে আছি। আন্দোলন করে তা আদায় করার পর নির্বাচনের কথা সামনে আসবে। বিএনপি কীভাবে প্রস্তুতি নেবে এটা আমাদের ব্যাপার। এখানে দৃশ্যমান হওয়ার কিছু নেই।

এদিকে বিএনপি সূত্র বলছে, বিভন্ন সময় ও কারণে বহিষ্কার নেতাদের নির্বাচনের আগে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। সক্রিয় করা হবে ভোটের মাঠে। নির্বাচনের আগে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ক্ষমা করতে পারেন। 

এ প্রসঙ্গে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এসব বলার সময় এখনও আসেনি। স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা করার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তারা একসময় দলের ত্যাগী নেতা ছিলেন। তবে এখন তারা বিএনপি করবেন কি না; মাঠে আছেন কি না- এসব দেখতে হবে।

Share this post

Join the conversation