গাইবান্ধায় বোরো চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
বিদ্যুৎ, ডিজেল, সার, কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গাইবান্ধায় জেলার প্রান্তিক কৃষকেরা। ইতোমধ্যেই সারাদেশের মতো গাইবান্ধা জেলায়ও বোরো চাষ শুরু হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ১ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য সেচ দিতে বিদ্যুৎচালিত গভীর সেচযন্ত্র ২৩৯টি, অগভীর ৩ হাজার ৫০টি, ডিজেলচালিত অগভীর ২ হাজার ৯৩২টি, এলএলপি বিদ্যুৎ ১৭ ও সোলার সেচযন্ত্র রয়েছে ৩৩টি। এসব যন্ত্র দিয়ে বোরো চাষিদের সেচের চাহিদা মেটানো হবে।
কৃষকরা জানান, এ বছর শুধু বিদ্যুতের দামই নয়, বীজ, সার-কীটনাশক, শ্রমিকের দামও বেড়েছে অনেকটাই। এজন্য সব মিলে হেক্টর প্রতি অতিরিক্ত সাড়ে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।
কৃষক রিয়াজউদ্দিন বলেন, বোরো ধান ঘরে নিয়ে আমার পরিবারের সব চাহিদা পূরণ করি। কিন্তু এ বছর বোরো চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি। বোরো আবাদের সবকিছুর উপকরণের দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে সার সংকট, বিদ্যুতের লোডশেডিং ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পড়লে দুর্ভোগের শেষ থাকবে না।
অগভীর সেচযন্ত্রের মালিক মিল্লাত বেপারী বলেন, গত বোরো মৌসুমে গৃহস্থদের কাছ থেকে বিঘা প্রতি ১ হাজার ৮ শ টাকা নেওয়া হয়েছে। এ বছরের বিদ্যুৎ ও যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের কাছ থেকে দুই হাজার থেকে দুই হাজার দুইশ টাকা নেয়া হচ্ছে।
তবে কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষকের খরচ কিছুটা বাড়লেও তাদের লোকসান হবে না। তাদের ফলন বাড়াতে এবং খরচ কমাতে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক বেলাল উদ্দিন জানান, বোরো আবাদে কৃষকদের লাভবান করতে ইতোমধ্যে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে কৃষকরা বোরো ধান ঘরে তুলে অনেকটাই লাভবান হবেন।

Join the conversation