06:29:58 pm
Wednesday, June 24

এলপি গ্যাস সংকটে দামে ‘ডাকাতি’

সরকার নির্ধারিত দামে দেশের কোথাও রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ নেই বলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। উপরন্তু রাজধানীসহ দেশের অনেক স্থানে এলপি গ্যাস কিনতে না পাওয়ার অভিযোগ মিলেছে। 

সরকার নির্ধারিত দামে দেশের কোথাও রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ নেই বলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। উপরন্তু রাজধানীসহ দেশের অনেক স্থানে এলপি গ্যাস কিনতে না পাওয়ার অভিযোগ মিলেছে। 
বেশ কিছু দিন ধরে বাজারে এলপি গ্যাসের সংকট চলছে। আদায় করা হচ্ছে বেশি অর্থ। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম রেকর্ড পরিমাণে ২৬৬ টাকা বাড়ায় বিইআরসি। ফলে এক হাজার ২৩২ টাকা থেকে এক লাফে ১২ কেজি সিলিন্ডারের নতুন মূল্য হয় ১ হাজার ৪৯৮ টাকা। এরপরপরই খোলা বাজারে এলপিজি গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকায়। ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরকার নির্ধারিত দামের চেয়েও ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন বিক্রেতারা। অনেক স্থানে অতিরিক্তি অর্থ দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার গ্যাস ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। পুরান ঢাকার ওয়ারীর বাসিন্দা আহমেদ এলিন জানান, বৃহস্পতিবার ওয়ারীর আশপাশে খুঁজে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে হলেও ১টি ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে পারেননি তিনি। আফতাবনগরের একটি দোকান থেকে গ্যাসের সিলিন্ডার নিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন সাদিকুর রহমান। 
 তিনি জানান, ১ হাজার ৮০০ টাকায় কিনেছেন সিলিন্ডারটি। সরকারি নির্ধারিত দামটি জানা থাকার পরও বেশি দামে সিলিন্ডার কেনার কারণ প্রসঙ্গে সাদিকুর বললেন, ‘আমার তো উপায় নেই। এর চেয়ে কম দামে কেউ বিক্রি করছেন না। আমরা জিম্মি অবস্থায় আছি।’
মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং এলাকার গ্যাস বিক্রেতা আইডিয়াল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মিজানুর রহমান বলেন, ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য তিনি দাম নিচ্ছেন ১ হাজার ৭০০ টাকা। সরকার নির্ধারিত দামের কথা উল্লেখ করলে তিনি বলেন, সরকার দাম নির্ধারণ করেছে ঠিকই, কিন্তু সরকার তো গ্যাস দেয় না, ডিলারদের কাছ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় গ্যাস নিতে হয়। এমন অবস্থায় সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করলে সিলিন্ডারপ্রতি ১০২ টাকা করে লোকসান গুনতে হবে।
রাজধানীর ইস্কাটনে হোটেল ব্যবসায়ী কালাম জানান, গ্যাসের দাম তো আগে কখনো এভাবে বাড়তে দেখিনি। মনে হয় গ্যাসের কিছুটা সংকট আছে। এই সুযোগে দাম বাড়তে শুরু করেছে। এভাবে বাড়লে তো ব্যবসায় টিকে থাকা যাবে না।
ঢাকার বাইরেও গ্যাসের দামে চলছে নৈরাজ্য। অনেক জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে না।  আমাদের  রাজশাহী ব্যুরো জানিয়েছে দাম বাড়ার ঘোষণার পরপরই রাজশাহীতে রান্নার জন্য ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা, খুচরা গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা ও পরিবেশকরা।
খুচরা গ্যাস বিক্রেতা ও পরিবেশকদের ভাষ্য, গ্যাসের সিলিন্ডার গত এক মাস ধরে ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, অন্যান্য এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারও দাম বৃদ্ধির পর থেকে গত পাঁচ দিন ধরে তারা ঠিকমতো পাচ্ছেন না। তিন থেকে চার দিন আগে গাড়ি পাঠানোর পরও মিলছে না গ্যাস। তাদের অনেকেরই দাবি-গুদামে এখন খালি সিলিন্ডার পড়ে আছে।
শুক্রবার নগরে কাদিরগঞ্জ এলাকায় যমুনা ও লাভ কোম্পানির গ্যাসের পরিবেশক মেসার্স হালিমা এজেন্সির কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায় নৈরাজ্যের আরও তথ্য। এ পরিবেশকের ব্যবস্থাপক আবদুর রহিম বলেন, তাদের প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার গ্যাসের সিলিন্ডারের চাহিদা রয়েছে। তারা দুই দিন পরপর একটি করে গাড়ি পাঠিয়ে থাকেন। তাতে ৬১৬টি সিলিন্ডার আসে। এখন তাদের বলা হচ্ছে, ‘তিন থেকে চার দিন পর গাড়িতে ২০০ সিলিন্ডার দেওয়া হবে। নিলে নাও, না নিলে যাও।’
আবদুর রহিম আরও বলেন, এখন তারা গ্রাহককে চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ করতে পারছেন না। অনেক গ্রাহক ফিরে যাচ্ছেন। এলপি গ্যাস অপারেটরগুলোর সংগঠন এলপিজি অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়ার) মনে করছে, শিল্প-কারখানাসহ বহুমুখী কাজে এলপি গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহে টান পড়েছে। খুচরায় সরবরাহে ঘাটতির ক্ষেত্রে এটিকেই কারণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। ঘাটতির সুযোগ নিয়ে বাড়ছে দাম। এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি আজম জে চৌধুরী বলেন, বিইআরসি অদক্ষ হওয়ার কারণে এলপি গ্যাসের দাম সঠিকভাবে নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। তারা কেবল সৌদি সিপি বিবেচনায় নিয়ে দাম ঠিক করে। অথচ এখানে অনেক প্রিমিয়ামের বিষয় রয়েছে।
এভাবে বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দাম দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ বলছেন, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম। তিনি বলেন, গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নিলে আইন অনুযায়ী প্রতিকারের ব্যবস্থা আছে। কেউ নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে গ্যাস কিনলে সরাসরি বিইআরসিতে অথবা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে অভিযোগ করতে পারবেন। এ ছাড়া আমাদের কাছে অভিযোগ করলেও আমরা বিষয়টি তদারক করতে পারব।