৭ বছর কারাভোগের পর নির্দোষ প্রমাণিত
১৯৮৮ সালের ২৭ আগস্ট রংপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় ১০ গ্রাম হিরোইনসদৃশ পাউডার পাওয়া যায় রফিকুল ইসলামের কাছে। পরে রংপুর থানায় চোরাচালান মামলায় গ্রেপ্তার হন তিনি। এ মামলায় রফিকুলকে সাত বছর কারাভোগের সাজা দেন আদালত। সেই সাত বছর কারাভোগও করেন তিনি। ৩৫ বছর পর বেরিয়ে এলো রংপুরের চোরাচালান সম্পর্কিত ট্রাইব্যুনাল ভুল করেছিল। আজ শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দায়মুক্তি দিয়ে তাকে খালাস দেন হাইকোর্ট।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় মাদকসহ গ্রেপ্তার হওয়ায় রফিকুলের বিরুদ্ধে চোরাচালান আইনে মামলা হয়। তার সঙ্গে ৫ গ্রাম করে দুই প্যাকেট হিরোইনসদৃশ পাউডার পাওয়া যায়। তখন রংপুরের চোরাচালান সম্পর্কিত ট্রাইব্যুনাল রফিকুলকে ৭ বছরের জেল ও এক হাজার টাকা জরিমানা করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা সেই পাউডারের রাসায়নিক পরীক্ষা ঠিকভাবে করা হয়নি সেসময়। আসামি রংপুরের চোরাচালান সম্পর্কিত ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর টাকা অভাবে সে সময়ে আপিল আবেদন করতে পারেননি। তৎকালীন রংপুর হাইকোর্টে আপিল করলেও তার জামিন হয়নি। এরপর বিভাগভিত্তিক হাইকোর্ট বন্ধ হয়ে যায়। শুরু হয়, তার ৭ বছরের কারাবাস।
৩৫ বছর পর প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী পুরনো মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিলে চূড়ান্ত শুনানিতে খালাস পান রফিকুল।
রফিকুল ইসলামকে তার ৩৫ বছর আগের ঠিকানায় পাওয়া যায়নি। এমনকি তার পরিবারের কেউই আর ওই ঠিকানায় নেই।
রাষ্ট্রপক্ষ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুল ইসলাম বলেন, বিচার সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার ঘাটতির কারণে ৭ বছর জেল খাটতে হয়েছে রফিকুলকে।

Join the conversation